
শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা: শিবগঞ্জ উপজেলার হরিনগর তাঁতিপাড়া গ্রামের সুবোধ চন্দ্র দাস ও লিলি রানী দাসের মেয়ে নিহারিকা দাস। খুব সাধারণ একটা পরিবারে বেড়ে উঠা নিহারিকার, নিজের শহরের গন্ডি পেরোনোটাই ছিল কঠিন, আজ সেই মেয়েই পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার মাইল দূরের দেশ জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে। জাপান সরকারের সম্মানজনক স্কলারশিপে তিনি সুযোগ পেয়েছেন দেশটির কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার। এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী নিহারিকার
একটা সময় নানা চাপে তার পড়াশোনা প্রায় থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বপ্নগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় পাশে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, বুঝতে পেরে সাহস জোগান পরিবার। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি ঘুরে দাঁড়ান,আর সেই পথ ধরেই আজকের এই সাফল্য।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে অনেকটায় আবেগঘন কণ্ঠে নিহারিকা বলেন পড়াশোনা চালিয়ে যাবার ব্যাপারে একেবারেই হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু স্যারদের সহযোগিতা আর পরিবারের সমর্থন আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আজ জাপানে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।” নিজ গ্রাম, নিজ শহর ও দেশ ছেড়ে সেই স্বপ্ন যাত্রায় যেতে কষ্ট হলেও আগামীতে দেশের জন্য অবশ্যই কিছু করার উদ্দেশ্যে যেতে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সাফিকুল বারী। তিনি বলেন,”আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ দেশের সীমা অতিক্রম করে আর্ন্তজাতিক পরিসরে নিজেদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে। এই সাফল্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসবে এবং জাতীয় অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
“কৃষি অনুষদের ডীন ড. মো মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মো. মেহেদী হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাহেব আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি অনূষদের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম।




