ফিচারশিরোনাম

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন চৌধুরী

কাজী এরশাদ আলী : ১৯৬০-এর দশকে ঢাকার মাঠের হাতে গোনা তারকা ফুটবলারদের একজন ছিলেন তপন চৌধুরী। গঙ্গাধরপট্টির চৌধুরী বাড়ির সন্তান তপন চৌধুরী ১৯৬৭ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেছিলেন ক্রীড়া সম্পাদক পদে।
১৯৬০-র দশকে বিজি প্রেস, ওয়ান্ডারার্স, ওয়ারীর মত প্রথম সারির ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন তপন। সবশেষ খেলেছেন ওয়ারীতে। ওই সময় ওয়ারীতে খেলেছেন কাজি সালাউদ্দিন (বর্তমান বাফুফে সভাপতি), জাহাঙ্গীর শাহ বাদশার ( ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার) মত খ্যাতিমানরা।
১৯৬৮ সালে অংশ নেন আগা খান আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টে; একই বছর লাহোরে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক দলের হয়ে খেলেন পাকিস্তানের জাতীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে।
শুধু ফুটবল নয়, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, বর্শা নিক্ষেপ, ক্রিকেট- সব খেলাতেই তপন প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৭ সালে আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ কলেজের হয়ে ৪০০ ও ৮০০ মিটার দৌড় ও বর্শা নিক্ষেপে চ্যাম্পিয়ন হন।
এর আগে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক গেমসে রিলেতে পান রৌপ্য পদক। ঢাকা বিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে মানিকগঞ্জের হয়ে এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখান।
১৯৬৫ সালে আন্ত স্কুল সাঁতার প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে ১০০ ও ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অধিকার করেন প্রথম স্থান। পাকিস্তান স্বাধীনতা দিবস দূরপাল্লার সাঁতারে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হন। ওই সময় মানিকগঞ্জ ক্রিকেট লিগ ছিল বেশ জমজমাট। লিগে প্রায় নিয়মিত ছিলেন তপন।
দেশের স্বাধীনতার ডাকে প্রিয় সেই খেলার ভুবন ছাড়তে তপন বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি; ঝাঁপিয়ে পড়েন রণাঙ্গনে। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। তপন ও তার বন্ধুরা মিলে কুকুরের গলায় আইয়ুব খানের ছবি আর লেজে পাকিস্তানের পতাকা বেঁধে ঘোরালেন পুরো মানিকগঞ্জ শহর। এর ফল হল রাষ্ট্রবিরোধী মামলা। তপনকে গ্রেপ্তার করা হল।
কয়েক মাস কারা ভোগের পর মুক্তি পান তিনি। সেই তপনই ১৯৭১ সালে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মানিকগঞ্জে এসডিওর বাসভবন ও আদালতে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের নেতৃত্ব দেন।
২৬ মার্চের পর থেকেই সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় মানিকগঞ্জে। ক্যাপ্টেন হালিমের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জের ট্রেজারি থেকে বেশ কিছু অস্ত্র লুট করা হয়। সেগুলো যাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, তাদের একজন তপন চৌধুরী।
প্রতিরোধের শুরুতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব পান তিনি। তখন সঙ্গী-সাথীসহ নয়ার হাটের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু অস্ত্র-লোকবল কম থাকায় ধামরাইয়ের কাছাকাছি পুলিশের বাধার মুখে তার মিশন পুরোপুরি সফল হয়নি। অক্টোবরে এক অপারেশনে শহীদ হলেন তপন চৌধুরী।
মানিকগঞ্জ জেলার স্টেডিয়ামটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তপন চৌধুরীর সম্মানে নামকরণ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button