আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

শনিবার গণভোট : বুগেনভিলে হতে যাচ্ছে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র!

বিশ্ব মানচিত্রে বুগেনভিলে নামের নতুন দেশ যুক্ত হতে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপপুঞ্জটিতে আগামীকাল ২৩ নভেম্বর, শনিবার স্বাধীনতার পক্ষে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গণভোট। এতে স্বাধীনতার পক্ষাবলম্বনকারীরা জয়লাভ করলে পৃথিবীর ১৯৬তম স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বুগেনভিলে।
তামা ও সোনার মতো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বুগেনভিলের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে ঔপনিবেশিক নিপীড়ন। বর্তমানে পাপুয়া নিউ গিনির প্রদেশ হিসেবে আছে দ্বীপপুঞ্জটি। যার জনসংখ্যা প্রায় দুই লক্ষাধিক।
অষ্টাদশ শতকে ফরাসি অভিযাত্রী বুগেনভিলে দ্বীপটি খুঁজে পান। যার নামানুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে জার্মান উপনিবেশে পরিণত দ্বীপটির নাম বদলে হয় জার্মান নিউ গিনি। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এর শাসন ক্ষমতা তারাই পরিচালনা করে।
১৯৭৫ সালে পাপুয়া নিউ গিনি স্বাধীনতা লাভ করলে বুগেনভিলে পরিণত হয় দেশটির একটি প্রদেশে। বর্ণবাদ আর অর্থনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়ে বুগেনভিলে কিছুদিন পরই স্বাধীনতা ঘোষণা করে । ১৯৮৮ সাল থেকে পাপুয়া নিউ গিনি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করে এর অধিবাসীরা। ৯ বছরের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে বুগেনভিলের ৪ থেকে ২০ হাজার মানুষ মারা যায়।
১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধের অবসান হয়। এর ফলে ২০০৫ সালে স্বায়ত্তশাসিত বুগেনভিলে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শনিবারের ভোটের মধ্য দিয়ে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন না স্বাধীনতা এমন সিদ্ধান্তই নেবে দ্বীপপুঞ্জটির বাসিন্দারা। ভোটের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও তাকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
গণভোটের তিন-চতুর্থাংশই স্বাধীনতার পক্ষে পড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে স্বাধীনতার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়লেই সাথে সাথে স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে না বুগেনভিলে। এটি হবে দ্বীপপুঞ্জটির স্বাধীনতার পথে প্রথম ধাপ হিসেবে।
তারা আরো বলছেন, বুগেনভিলে দ্বীপপুঞ্জটি গণভোটের মধ্য দিয়ে আলাদা হয়ে গেলে অন্যান্য প্রদেশও অধিকতর স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা চাইতে পারে- এই ভয়েই পাপুয়া নিউ গিনি এর স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতা করছে।
এদিকে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও কিরিবাতির পাশাপাশি সম্প্রতি বুগেনভিলের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী হয়েছে চীন। দ্বীপপুঞ্জটির স্বাধীনতার প্রশ্নে এ গণভোট আয়োজনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের পাশাপাশি অর্থায়ন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button