
শতকোটি রূপির সম্পত্তি ও তিন বছরের ফুটফুটে কন্যা সন্তান ফেলে সন্যাসব্রত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের মধ্য প্রদেশের সুমিত রাঠোর ও অনামিকা রাঠোর দম্পতি। জৈন ধর্মের অনুসারী এই দম্পতি ‘শ্বেতাম্বর’ ধারা অনুযায়ী সন্যাসব্রত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৩৫ বছর বয়সী সুমিত ও ৩৪ বছর বয়সী অনামিক সুশিক্ষিত, সুমিত নিমুচে তার পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন যার মূল্য ১০০ কোটি রূপির সমতুল্য। ৩৪ বছর বয়সী অনামিকা একজন প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী, বিয়ের আগে হিন্দুস্তান জিন্ক নামের একটি খনি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
চার বছর আগে বিয়ে করা সুমিত ও অনামিকা এখন মৌনব্রত পালন করছেন এবং সংসারের মায়া কাটাতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। সুমিত গত মাসে সন্যাসব্রত গ্রহণের কথা ঘোষণা দেন। পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, সন্যাস গ্রহণের কথা সুমিতের মনে হলে সেটার জন্য অনামিকার অনুমতি চান তিনি। পরে অনামিকা নিজেই তার সঙ্গে সন্যাসব্রতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মেয়ের বয়স তখন আট মাস।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তারা জৈন সন্যাসব্রত গ্রহণের শপথ নেবেন যা পরিচালনা করবেন জৈন পুরোহিত আচার্য রামলাল মহারাজ। ওই আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের চুল কেটে ফেলে তাদের সাদা আলখেল্লা পরিধান করতে হবে, এবং মুখ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
তাদের তিন বছরের কন্যা ইভিয়াকে তাদের দাদা দাদীর জিম্মায় রেখে যাচ্ছেন তারা। অনামিকার বাবা নিমুচ জেলা বিজেপির সভাপতি অশোক চান্ডালিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের সন্ন্যাসী হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধী নই, আমি তার মেয়ের খেয়াল রাখবো। সুমিতের বাবা রাজেন্দ্র সিংও একই কথা বলেছেন।
তবে স্থানীয় চাইল্ড প্রটেকশন কর্মকর্তা রাঘবেন্দ্র শর্মা বলেন, এটা শিশুটির অধিকার লঙ্ঘন। তারা তাদের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের তাদের আটকানো উচিত। তিনি যোগ করেন, মধ্যপ্রদেশ চাইল্ড প্রটেকশন কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে তিনি অনুরোধ করবেন। এনডিটিভি।




