লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়নে নতুন কৌশল

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি : লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়নে নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে একটি চিহ্নিত মহল। গত ৮,৯ ও ১০ আগষ্ট তিন দিনে লামা ইউপির ডলু মৌজায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি লিঃ এর বাগানে ২০২১ সালে সৃজিত প্রায় আট হাজার রাবার বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলছে রংধজন, মতিত্রিপুরা গং। ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তারা জানায়, গত কয়েকদিন আগে কয়েকজন উপজাতি ২১ সালে সৃজিত তাদের লীজকৃত রাবার বাগানে বাঁশ পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি বাউল ঘরে সামনে লাল রঙের কাপড়ে “অশোক বিহার” শিরোনামে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। এর পর গত ১০ আগষ্ট দুপুরে রংধজন ত্রিপুরা, মতি ত্রিপুরা, ফদরাম ত্রিপুরা, ওয়াসিং ত্রিপুরা গং এর নেতৃত্বে লাকুম মুরুং, রিংরং মুরুং, রেংএন মুরুং, ইংইয়ং মুরুং, দুইথং মুরুং, ইয়ংইং মুরুং, কাদো মুরুংসহ ২০/২৫ জন মিলে ঝুলানো লাল ব্যানারটি ছিড়ে দেয় এবং পলিথিন টেনে খোলে দেয়। এর আগে তারা দলবদ্ধ হয়ে কয়েক হাজার রাবার চারা কেটে দেয়। ওই সময় একজনের হাতে একটি একনলা বন্দক ছিল। আর সবার হাতে দা-কোদাল ছিল। রাবার ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজার জানান, গত প্রায় দু’মাস ধরে ২১ সালে সৃজিত বাগান এলাকায় রংধজন ত্রিপুরা গং অগ্নিঅস্ত্র ও দা, খন্তা-কোদাল নিয়ে মহড়া দিয়ে আসছে। তাদের হামলার ভয়ে লামা রাবার এর কোনো কর্মচারী ২১ সালে পুন: সৃজিত বাগানের দ্বারে কাছেও যেতে পারছে না। এ সব ব্যপারে লামা রাবার কর্তৃপক্ষ লামা থানায় অভিযোগ করেছেন এবং একই ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানাযায়। এদিকে ১২ আগষ্ট “হিল ভয়েস” নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় “বান্দরবান জেলাধীন লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাড়াটে ভূমিদস্যুদের কর্তৃক নবনির্মিত এক বৌদ্ধ বিহারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে” শীর্ষক সংবাদ পরিবেশন হয়। স্থানীয় উপজাতিদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটিতে আরো লেখা হয় যে, “গত ১০ আগস্ট ২০২২ বিকাল আনুমানিক ৩:০০ টার দিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু নুরুল হক নুর’এর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জনের একদল দুর্বৃত্ত রেংইয়েন কার্বারি পাড়ার নবনির্মিত অশোক বৌদ্ধ বিহারে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিহারটির ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং দুটি বুদ্ধিমূর্তি লুট করে নিয়ে যায়”। এই দিকে এই ঘটনায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি লি: এর মালিক পক্ষ ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করেন;
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রসন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট “হিল ভয়েস” নামক উগ্রপন্থি পার্বত্য সন্ত্রাসীদের মূখপাত্র অনলাইন পত্রিকায় সব সময় মিথ্যাচার করে এই অঞ্চলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি সরজমিনকে জানান, রেংইয়েন কার্বারি পাড়া থেকে উপজাতিদের দাবিকৃত নবনির্মিত অশোক বৌদ্ধ বিহারটি বেশ দূরে। অথচ তারও কাছে মাংকুম কার্বারী নয়াপাড়ায় আরো দু’ তিন বছর আগে একটি বৌদ্ধ বিহার ও একটি খ্রিস্টান গীর্জা তৈরি করা হয়। নতুন করে লামা রাবার বাগানের মধ্যবর্তী টিলায় কোম্পানীর একটি জরাজীর্ণ বাউল ঘরকে অশোক বিহার বানিয়ে, আবার নিজেরা টেনে হেচড়ে ভেঙ্গে দিয়ে! রাবার বাগান মালিকদের দোষারোপ করছে। ১৩ আগষ্ট সরেজমিন তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সাথে সেখানকার লাংকুম কারবারীসহ কয়েকজন মুরুং এর সাথে কথা হয়। অশোক বিহার কারা কখন ভেঙ্গেছে; জানতে চাইলে উপস্থিত মুরুংরা প্রথমে ইতস্তবোধ করে। পরে বিহারটি ভাঙ্গার ঘটণাবলি, তিন জন সামনা সামনি তিন ধরনের বর্নণা দেয়(!)। এই ঘটনায় মুরুংদের থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য শুনে একটি সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেন অন্যরা। এদিকে তাদের দাবি হচ্ছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ সেখানকার ত্রিপুরা ও ম্রো পাড়াবাসীদের প্রায় ৪০০ একর ভূমিতে জোর করে বাগান সৃজন করেন। এবং লামা রাবার সরকার থেকে ১২০০ একর জমি লীজ নিয়ে ১৬ শ একর বা তারও বেশি জমি দখল করেছে। এর ফলে তাদের জুম ভূমি হারিয়ে তারা চাষাবাদ করতে পারছে না। লাংকুম মুরুং কারবারিসহ সবাই এক বাক্যে বলেন যে, যদি লামা রাবার এর লীজ ভূমি হয়, তা হলে তারা সেখানে কোন দাবি করবে না। লামা রাবার বাগান এরিয়া পরিমাপ করে দিয়ে তার বেশি অংশ খাস ভূমিটা তারা দাবি করছে। তাদের এই দাবিটি যৌক্তিক বলে অনেকই মনে করেন। অপর দিকে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃপক্ষ জানান, তারা সেখানে সরকার থেকে ১৬২৫ একর জমি লীজ প্রাপ্ত হয়ে বাগান সৃজন করেছেন। মুরুংদের দাবি সত্য হলে, তা তারাও মেনে নিবেন। কিন্তু নেপথ্যে যারা ইন্ধনকারী তারাতো আবার নতুন কোনো ফন্দি করে, লামা রাবার ধ্বংসে নতুন কৌশল করার চেষ্টা করবে বলেও মনে করেন অনেকে। স্থানীয়রা জানান, বিরোধটি নিস্পত্তিকল্পে ১৬ আগষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে একটি সমজোতা বা আপোষ মীমাংসা বৈঠক হতে যাচ্ছে। মহল বিশেষ এমন একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়না। মুূলতঃ সেই বৈঠক বাঞ্ছালের জন্য উপজাতিদেরকে ক্রীড়ানক বানিয়ে একজন গরু বা তার লোকেরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে এসব ঝামেলা পাকাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত মিমাংসার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




