অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

লাগাতার অনশনে অসুস্থ পাটকল শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি

নিয়মিত মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের শ্রমিকদের লাগাতার আমরণ অনশনে প্রায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপরও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক শ্রমিককে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অসুস্থ এক শ্রমিককে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আরও দুইজনকে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, শীতের রাতে তাঁবু টাঙিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অনাহারে থাকায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫-২৬ জনকে খুমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের অনশন স্থানেই স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বাসায় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতিমন্ত্রী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার মিটিংয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণ হবে। কিন্তু শ্রমিক নেতারা মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবে বলে জানান।
এদিকে ঘোষিত ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে বলে আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাজশাহীর পাটকল শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বলছেন, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। এ কারণে তারা প্রয়োজনে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মিলগেটে অনশন চালিয়ে যাবেন।
রাজশাহী পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনায় বসেন। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তারা মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো পাটকল শ্রমিক বাড়ি ফিরবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই শ্রমিক নেতা।
এ ছাড়া যশোরে দুটি পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, শ্রমিকরা নিজেদের কাঁথা-কম্বল নিয়ে অনশনে নেমেছে। সমস্যার সমাধান করতে যদি মরতে হয়, তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চলবে।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button