
কামরুল ইসলাম, রাংগামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার মাইনী বাজার। পাহাড়ি জনপদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বাজার বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পরিণত হয় ছাইভস্মে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার আগুনে পুড়ে যায় বাজারের ১৭টি দোকান ও কয়েকটি বসতঘর। জীবিকার স্বপ্ন আর পরিশ্রমের সঞ্চয় চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে নির্বাক হয়ে যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
মাইনী বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন সওদাগর জানান, আগুনের সূত্রপাত বুঝে ওঠার আগেই দোকানপাটে আগুন লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দোকানের সব মালামাল মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।
একই হতাশার সুরে ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, বাজারটাই আমাদের জীবিকা। এই ক্ষতির পর নতুন করে দাঁড়ানো কতটা সম্ভব, জানি না।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দুর্যোগের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন যথাযথ সহায়তা পায়, সেজন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজারে রিজার্ভ পানির ট্যাংক ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুধু আশ্বাস নয়, তাৎক্ষণিক সহায়তাও পরিদর্শন শেষে তিনি বানভাসি ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। এছাড়া মাইনী বাজার ও লংগদু পল্টনে ২টি সোলার প্যানেল, ২টি ব্যাটারি ও ৪টি ফ্যান প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আশার আলো ছড়ান তিনি। এ প্লাস প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন নগদ অর্থ সহায়তা।
এ সময় জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশীদ, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশীদ মামুন, লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ নেওয়াজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন সহায়তা আর পুনর্বাসনের অপেক্ষায়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের দেওয়া আশ্বাস তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগালেও বাস্তবায়নই হবে তাদের একমাত্র ভরসা।
মাইনী বাজারের মানুষের দাবি দোকানপাট পুড়েছে, কিন্তু মনোবল পুড়েনি। সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।




