রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতার প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। শনিবার সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এই প্রস্তাব দেন।
উল্লেখ্য, এ বছরের আগস্টের শেষদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার মুখে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা আয়োজনে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক চীন।”
রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় অধিবেশনে বৃহস্পতিবার প্রস্তাব পাস হয়। সে প্রস্তাবে অবিলম্বে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের ইতি টানতে এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটিতে ১৩৫টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়, বিপক্ষে যে ১০টি দেশ ভোট দিয়েছিল তার মধ্যে চীনও ছিল। এর দুদিন পরই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এলেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাবেন। সোম ও মঙ্গলবার নাইপিদোতে এশিয়া ও ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। সংকটের স্থায়ী সমাধানে নিরাপত্তা ও মর্যাদা দিয়ে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে।”
শি জিন পিং পুনরায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন পাঠিয়েছিলেন। সেজন্য শিয়ের ধন্যবাদ বার্তা শেখ হাসিনাকে পৌঁছে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং ই। তিনি বলেন, “সাউথ সাউথ সহযোগিতার আওতায় চীন বাংলাদেশকে আরও সহযোগিতা করতে চায়।”
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।




