
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখনো মানবিক ইস্যুর পর্যায়ে থাকলেও এটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারত সহমত পোষণ করে।
শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে বৈঠক করেছেন। খবর পিটিআই।
রাখাইন রাজ্যের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসাবে আখ্যায়িত করে শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমার কিভাবে রোহিঙ্গাদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করা হয়েছে। এটি কেবল জনস্রোত না, এর সাথে নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যু জড়িত, যা কেবল বাংলাদেশ বা মিয়ানমার নয়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, সমস্যাটি মিয়ানমারে সৃষ্ট, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রয়েছে। বাংলাদেশ চায় যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারের অধিবাসীরা নিজ দেশে ফিরে যাক।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে নিজ দেশে ফিরত পাঠানো যায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের অধিবাসীর সংখ্যা বিশাল হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।
‘রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ – ভারতের এ অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে শহীদুল হক বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে চরমপন্থার আশঙ্কা থাকে। তবে বাস্তুচ্যুতরা সব সময় নিরাপত্তার জন্য হুমকী নয়। এটা নির্ভর করে ব্যবস্থাপনার ওপর। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। তারা যাতে চরমপস্থার দিকে ঝুঁকে না পরে, সেদিকে নজর রাখার দায়িত্ব সরকারের। আর এটি এখন একটি মানবিক ইস্যু। এর সাথে অনেক নারী ও শিশু জড়িত রয়েছে, যাদের সহায়তা প্রয়োজন।
ভারতে অবৈধভাবে আশ্রয় নেয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত শেষ পর্যন্ত মানবিক ইস্যুকে যথাযথ বিবেচনায় নেয়া হবে।
রাখাইনে হিন্দুদের গণকবর আবিষ্কার করার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শহীদুল হক বলেন, জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর সময় ধর্মকে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না। সুত্র : নয়া দিগন্ত




