শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে

ছবি : সংগৃহীত
রোহিঙ্গা সংকটের মূল মিয়ানমারে, এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে দেশ এগিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় আজারবাইজানের বাকুতে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনের (ন্যাম) সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক আর মানবপাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তার সরকার সচেষ্ট বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের ১৮তম ন্যাম সম্মেলনে সাধারণ বিতর্কের বিষয় হলো-সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সমন্বিত ও পর্যাপ্ত সাড়াদান নিশ্চিতে বানদুংয়ের মূলনীতিগুলো সমুন্নত রাখা।
এদিকে, ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দুই প্রধানমন্ত্রী বাকু কংগ্রেস সেন্টারে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সংস্থার চেতনা সমুন্নত রাখা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম সম্মেলন। দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৬০ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান যোগ দিয়েছেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বাকু সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য ন্যামের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে আজারবাইজান।
শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় সেন্টারে পৌঁছলে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট তাকে স্বাগত জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৭তম ন্যাম সম্মেলনের পর থেকে প্রয়াত হওয়া ন্যাম নেতাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৭তম ন্যাম সম্মেলন ২০১৬ সালে ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সম্মেলনে যোগ দেয়া বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, জিবুতির প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-অ্যাডো, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু, তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবাংগুলি বেরদাইমুখামেদো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান বাকির ইজেৎবেগোভিক, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ মোস্তাফা আল-সারাজ।
ন্যামের বর্তমান সভাপতি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী তিন বছরের জন্য ন্যামের সভাপতি নির্বাচিত হন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি তিজ্জানি মোহাম্মদ-বান্দে।
শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সেন্টারের ভোজ হলে প্রতিনিধি দলের প্রধানদের জন্য আয়োজিত আলোচনা ও মধ্যাহ্নভোজ এবং প্ল্যানারি সেশনে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় তিনি হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনায় যোগ দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button