আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

রোহিঙ্গা নিধনের আগে ভেঙে পড়েছিল মিয়ানমারে জাতিসংঘের কার্যক্রম!

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ২০১৭ সালে সেনা হামলার ঠিক আগে সম্মিলিত ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমর্থন না পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয় জাতিসংঘ। সংস্থার এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০১৭ সালের ওই সেনা অভিযানের কারণে মিয়ানমার থেকে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ চালানো সেনা অভিযানে বহু হত্যা, গণধর্ষণ ও প্রচুর ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে।
কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে মিয়ানমার দাবি করছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবেই উত্তর রাখাইন রাজ্যের কয়েকশ গ্রামে অভিযান চালানো হয়েছে।
মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে ৩৪ পাতার একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা জমা দিয়েছেন গুয়েতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের দূত গার্ট রোজেন্থাল। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনা করতে রোজেন্থালকে এ বছরের শুরুতে নিয়োগ দেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
রোজেন্থাল তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, ‘ভুল হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না করে খাপছাড়া কৌশল অবলম্বন করায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সুযোগ হারিয়েছে জাতিসংঘ।’
‘সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘের দায়িত্ব ছিল সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। সে কাজে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ,’ যোগ করেন রোজেন্থাল।
তিনি আরো জানান, মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওই সময় একমত হতে পারেননি জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। মিয়ানমারে বৃহৎ পরিসরে আরো জোরদার গণমুখী উদ্যোগ নেওয়া উচিত নাকি কূটনৈতিকভাবে নিভৃতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত—এ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মিয়ানমারের মাঠ পর্যায় থেকেও জাতিসংঘ কার্যালয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছিল।
রোজেন্থাল জানান, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ‘নপুংসক’ সাংগঠনিক ব্যবস্থা একদিকে যেমন মিয়ানমার সরকারকে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খেয়েছে, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করে গেছে।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশকেই রোজেন্থালের প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান ডুজেরিক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button