রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে অবস্থিত বিদেশী কুটনীতিকরা নিরব
রাখাইন প্রদেশের অত্যন্ত দুর্বিসহ জীবনযাপনকারী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনারা বাড়িঘর জ্বালাও-পোড়াও, ধর্ষণ ও নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নির্মূল করার প্রমাণ আবারও প্রকাশ পেয়েছে। দুর্গম সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে প্রবেশ করেছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা।
রাখাইনের এ সংকটের সাথে অনেক বিব্রতকর প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। রুয়ান্ডা ও বসনিয়ায় এবং পরে সুদান ও সিরিয়ার গণহত্যার পর যাতে ‘আর কখনো’ এমন ঘটনার পুনরাবৃতি না ঘটে বিশ্ব তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত নিধনযজ্ঞ রোধে দৃশ্যত তারা কোনো কিছুই করছে না।
মাত্র কয়েক সপ্তাহে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমের দেশ থেকে পালিয়ে আসায় যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে সেই জরুরি মানবিক বিপর্যয় নিরসনে এখন কি করা যেতে পারে? মিয়ানমারের বাইরে সমালোচনা বেড়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতরেস আন্তর্জাতিস সংস্থাগুলোর ‘অবাধ প্রবেশের’ সুযোগ দেয়ার দাবি করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের দ্রুত বর্ধিষ্ণু জরুরি উদ্বাস্তু, মানবিক ও মানবাধিকারের দু:স্বপ্ন বলে অভিহিত করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো একে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও বিতাড়নের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর অকরোধ আরোপ করার কথা বলেছে।
তবে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগুনে অবস্থিত বিদেশী কুটনীতিক কোর প্রকাশ্যে দেশটির সেনাবাহিনী বা অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে সমালোচনা করতে এখনো আগ্রহ প্রকাশ করছে না। তারা বলছেন, আরো ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে তারা তাদের অবশিষ্ট প্রভাবকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
গত ২৫ আগস্ট থেকে অর্ধ মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এখনো অসংখ্য রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অবশিষ্ট প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে পারে। কারণ যারা পালাতে পারেনি তারা আটকা পড়ে আছে এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগালোর সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ থেকে এটি জানা গেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেখানে ত্রাণ সরবরাহ করতে দিচ্ছে না এবং এমনকি সেখানকার লোকদের চাহিদা কি তাও নিরূপন করতে দিচ্ছে না।
নরওয়ের রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান ইগেল্যান্ড বলেন, ‘আমাদেরকে যেতে দেয়া হয় না বিশ্বে এমন স্থান খুবই কম রয়েছে। উত্তর রাখাইনে আমাদের একটি অফিস রয়েছে। কর্মচারি আছে এবং আমরা সেখানে ত্রাণ সহায়তা করতে পারি। আমরা আগামীকালই আমরা আমাদের ট্রাক নিয়ে যেতে পারি, কিন্তু আমাদেরকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এটি বেআইনি, অসহনীয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি এসব সমস্যা নিয়ে ইয়াংগুনের অর্ধডজন রাষ্ট্রদূত ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি, তাদের সবাই আমাকে এসব তথ্য চেপে যেতে বলেছেন।’
তাদের এই অনিহার পেছনে হয়ত অনেক কারণ রয়েছে। এর একটি বড় কারণ হলো, অর্থনৈতিক ও জাতিগত কিছু সমস্যা সত্ত্বেও মিয়ানমার তাদের কাছে তাদের একটি সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরছে। তা হলো ২০১৫ সালের নির্বাচনে নোবেল শান্তিপুরস্কার জয়ী অং সান সু চি’র নেতৃত্বে দেশটিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা দেশটিতে গণতান্ত্রিক বিকাশের আশার সৃষ্টি করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস




