শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : রীতি ভেঙে বিশ্ব ধর্মে চেয়ারম্যান নিয়োগ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে রীতিবহির্ভূতভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাবে এমনটি করা হয়েছে বলে শিক্ষক মহলে গুঞ্জন উঠেছে।
তবে এ নিয়ে উপাচার্য বলেছেন, যাঁর চেয়ারম্যান হওয়ার কথা ছিল, তাঁর অনুরোধেই এটা করা হয়েছে এবং এটা অসাধারণ দৃষ্টান্ত রাখছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুসারে কোনো শিক্ষক স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরে আর কখনও তাঁকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। অথচ বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাজরীন হুদা দু-দুবার স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করা সত্ত্বেও রীতিবহির্ভূতভাবে তাঁকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান নিয়োগের চিঠি সাধারণত এক মাস আগে ইস্যু করা হয়। কিন্তু ফাজরীন হুদাকে চেয়ারম্যান করতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মাত্র একদিন আগে (গত ৩০ সেপ্টেম্বর) তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যান নিয়োগের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
জানা গেছে, ড. ফাজরীন হুদা ২০০৪ সালের ২৪ নভেম্বর এবং ২০০৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুটি চিঠির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে ‘তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে অপারগ’ বলে অবহিত করেন। এ কারণে ফাজরীন হুদা বিদেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি করে আসার পরও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রচলিত প্রথা অনুসারে তাঁকে চেয়ারম্যান না করে পর্যায়ক্রম অনুসরণ করে অন্যদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিন বছর করে মোট ছয় বছরের জন্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াস ও ড. তপন ডি রোজারিওকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের চেয়ারম্যান তপন ডি রোজারিওর তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে চেয়ারম্যান করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ফাজরীন হুদাকে ১ অক্টোবর থেকে তিন বছরের জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
অধ্যাপক ড. ফাজরীন হুদা বরিশাল বিভাগের এক প্রভাবশালী ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একমাত্র শ্যালিকা। এ ছাড়া তাঁর বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের প্রভোস্ট। এসব কারণেই উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান রীতি ভেঙে ফাজরীন হুদাকে ওই বিভাগের চেয়ারম্যান করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
রীতি ভঙ্গের বিষয়ে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে থাকা একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘এটা সাধারণত হয় না। আইনের পাশাপাশি রীতিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। রীতি ভঙ্গ করলে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়ে যায়। এই দৃষ্টান্ত ভালো নয়।’
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়ম আছে। এরপর যিনি চেয়ারম্যান হতেন, তিনিও উনাকে (ফাজরীন হুদাকে) হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অধ্যাপক ফাজরীন হুদা উনার শিক্ষক। এটা অসাধারণ দৃষ্টান্ত রাখছে, খুব ভালো হয়েছে।’ সুত্র: এনটিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button