
মুম্বাইয়ের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে প্রয়াত সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রেমিকা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে। বুধবার সকালে তাকে নেওয়া হয় জেলে।
এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন একাধিক বলিউড তারকা। সুশান্ত মৃত্যু তদন্তে নেমে যে প্রক্রিয়ায় রিয়াকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ। তারা রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তাপসী পান্নু টুইটারে একটি খবরের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “তাহলে রিয়া সুযোগসন্ধানীও ছিল না, খুনিও নয়। কিন্তু ও মাদক সেবন এবং পাচার করদো। এই কেস যারই ছিল, তাকে শুভেচ্ছা। সুশান্ত ন্যায় বিচার পেলেন না, কিন্তু ওরা পেয়ে গেলেন।”
অন্য টুইটে বিদ্রূপ করেন, “রিয়া নিজে মাদক সেবন করছিলেন না। সুশান্তর জন্য কিনতেন। এই যদি বিষয় হয়, তাহলে সুশান্ত মারা না গেলে তাকেও কি গ্রেপ্তার করা হতো? ওহ নো!! রিয়া নিশ্চয় জোর করে সুশান্তকে ড্রাগ দিতো। গাঁজাও তাকে জোর করে রিয়াই দিতো। হ্যাঁ, এটাই হয়েছিল। দারুণ! আমরা করে দেখাতে পেরেছি…।”
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোনম কাপুরও। ইনস্টাগ্রামে একটি বাণী শেয়ার করেন। যার মর্ম হচ্ছে— নিজে শিকার না হওয়া পর্যন্ত সবাই ডাইনি শিকার করতে ভালোবাসে।
এ ছাড়া রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছেন ফারহান আখতার, অনুরাগ কাশ্যপ, নেহা ধুপিয়া ও হেনসেল মেহতা।
এ দিকে রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “তিনটি কেন্দ্রীয় সংস্থা হাত ধুয়ে একজন নারীর পেছনে পড়েছে, কারণ সে এমন একজনকে ভালোবাসত যে মাদকাসক্ত ছিল এবং মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিল বেশ কয়েক বছর ধরে এবং মুম্বাইয়ের পাঁচজন নামী মনোচিকিৎসক তার চিকিৎসা করছিল। যে আত্মহত্যা করে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছে, তাকে বেআইনিভাবে দেওয়া ওষুধের সেবন করে।”
এর আগে রবিবার বলেন, “রিয়া গ্রেপ্তার জন্য প্রস্তুত কারণ এখানে ডাইনির খোঁজ চলছে। যদি কাউকে ভালোবাসা অপরাধ হয় তাহলে নিজের ভালোবাসার জন্য ফল ভোগ করতে তৈরি রিয়া। যেহেতু ও নির্দোষ তাই এখনো পর্যন্ত কোনো আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন জানাননি রিয়া, বিহার পুলিশ, সিবিআই, ইডি এবং এনসিবিতে ওর বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা মামলায়।”
রিয়ার গ্রেপ্তারের খবরে সুশান্তর পরিবারের তরফে প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন আমেরিকা প্রবাসী বোন শ্বেতা সিং কীর্তি। টুইটে লেখেন, “ভগবান আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।”
এ ছাড়া সুশান্তর সাবেক প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে লেখেন, “বিচার।” সঙ্গে ছিল এই বার্তা, “কিছুই বাই চান্স ঘটে না, কিছুই ভাগ্যের জোরে ঘটে না। তুমি নিজে নিজের ভাগ্য লেখো, তোমার কাজের মধ্যমে, সেটাই তোমার কর্মফল।”
এনডিপিএস আইনের আওতায় ৮ (সি), ২০ (বি), ২৭ (এ), ২৮ এবং ২৯ নম্বর ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় রিয়া চক্রবর্তীকে। তার বিরুদ্ধে এনসিবির তরফে যে ধারাগুলো এনডিপিএন আইনের আওতায় আনা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্য ২৭ (এ) ধারা অর্থাৎ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, যা প্রমাণ হলে কমপক্ষে ১০ বছরের সাজা হবে রিয়ার।



