জাতীয়শিরোনাম

রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকতে পারে না বাংলাদেশ : আকবর আলি খান

পতাকা ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী ভারতের অবদান থাকলেও রাষ্ট্র হিসেবে তার প্রতি বাংলাদেশ ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান। তিনি বলেছেন, ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকার কথাটি কিন্তু ১৯৭১ সালে শোনা যেত না, সম্প্রতি উঠেছে। এরকম চিরন্তন কৃতজ্ঞতাবোধ পৃথিবীর কোথাও নেই।
আজ সোমবার স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। আকবর আলি খান আরও বলেন, ভারতের সাথে সম্পর্ক এটা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব না। এটা জাতির সাথে জাতির বন্ধুত্ব। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব তখনই হবে যখন আমাদের স্বার্থ অভিন্ন হবে। আর যদি আমাদের স্বার্থের ক্ষেত্রে সংঘাত থাকে, তাহলে চিরন্তন কৃতজ্ঞতা বোধ কোনো দিনই হবে না।
তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন রয়েছে তাতে মানুষে মানুষে বিভেদ কমার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে বিভেদ বেড়েই চলেছে। এই বৈষম্য বেড়েছে গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে। এর একটি কারণ হচ্ছে, দেশে প্রচণ্ড দুর্নীতি চলছে, এই দুর্নীতির ফলে কালো টাকা এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের এখানে বৈষম্য বেড়েই চলেছে।
‘উদারনৈতিক গণতন্ত্র’ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা হলেও বাংলাদেশে তা ‘দুর্বল’ অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, উদারনৈতিক গণতন্ত্রে কেবল নির্বাচন হলেই চলবে না। একে অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সেখানে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা থাকতে হবে, সেখানে আইনের শাসন থাকতে হবে। এই ধরনের বিষয়গুলো বাংলাদেশ এখনও দুর্বল।
দারিদ্র্যসীমার নিজে থাকা মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনাকে ৫০ বছরে বাংলাদেশের ‘অকল্পনীয়’ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন আকবর আলি খান। তিনি বলেন, আমরা যদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকসমূহ দেখি, তাহলে অবশ্যই আমাদের গর্ব করার কারণ রয়েছে। তবে দারিদ্র্য শুধু বাংলাদেশেই কমেনি, পৃথিবীর সব দেশেই কমেছে।
সিজিএসের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাফর ইমাম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ ইব্রাহিম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সিজিএসের আয়োজনে বাংলাদেশের ৫০ বছর শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button