
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মিছিলে পরিবাগে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে ঘটনাস্থলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে । আহতদের বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম ফজলু নয়া দিগন্তকে জানান, ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকাল তিনটায় পল্টনস্থ মুক্তি ভবনে সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়েছে।
আজ বেলা ১২টার দিকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ বের করা হয়। মিছিলটি মতস ভবন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ হয়ে পরিবাগের মোড়ে পৌছা মাত্র পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশ এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এঘটনায় বেশ সেখানে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন।
এদিকে এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীকে লেখা খোলা চিঠিতে বলেন, সরকার দেশবাসী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে এই চুক্তি সম্পাদন করেছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, মিথ্যাচার, প্রতারণা, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি এবং আইনভঙ্গ করে চলছে জাতীয় স্বার্থবিরোধী রামপাল ও ওরিয়ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কাজ। চলছে ভূমি ও বনগ্রাসী অপতৎপরতা। প্রতিদিন সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে হাজার হাজার টনের কয়লা জাহাজ যাতায়াত করবে। সুন্দরবনের ওপর বছরে ৪৭ লাখ টন কয়লা পোড়ানো হবে। ৮ লাখ টন বিষাক্ত ছাইসহ নানা বিষাক্ত দ্রব্য তৈরি হবে। পানি ও বায়ু দূষণ খাদ্যচক্র ও জীবনচক্রকে বিপর্যস্ত করবে। এগুলো চলতে দিলে সুন্দরবন বিনাশ হবে এবং পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা হারাবেন, ক্রমে উদ্বাস্তু হবেন আরও অনেক মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়বে। দেশ হারাবে প্রাণপ্রকৃতির অতুলনীয় সম্পদ, অসাধারণ বাস্তুসংস্থান ও বিশ্ব ঐতিহ্য। নয়া দিগন্ত



