রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ২০ কিলোমিটার বিধ্বস্ত

পাহাড়ি ও ভূমিধসের ভয়াল চিহ্ন এখন পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সর্বত্র। টানা বর্ষণে পাহাড় ও ভূমিধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মঘাইছড়ি থেকে মানিকছড়ি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতায় আগামী দুই মাসেও এই সড়ক চালু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র। চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়কের এই ২০ কিলোমিটারের প্রায় ৫০টি স্থান নজিরবিহীনভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। শত শত টন পাহাড়ি মাটি, বালি, পাললিক শিলা রাস্তার ওপর ধসে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশের মাঝ বরাবর দেখা দিয়েছে মারাত্মক ফাটল। সড়কের ওপর বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি গাছপালা বৈদ্যুতিক খুঁটি কয়েক ফুট উঁচু কাদার আস্তরণ গত দু’দিন ধরে পড়ে আছে। সড়কটির সাপছড়ি অংশে প্রায় ২৫০ ফুট সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এই অচল রাস্তা পার হতে জনসাধারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করছে পার্শ্ববর্তী প্রায় ২ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের খাড়া এবড়ো থেবড়ো পিচ্ছিল পথ। মঘাইছড়ি থেকে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের এবং নিকটবর্তী অন্তত ১৬টি পাহাড়ের ভয়াবহ ধসজনিত ফাটল দেখা যাচ্ছে। সড়কটির অন্তত ২৫টি অংশের অর্ধেক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মঘাইছড়ি থেকে মানিকছড়ি পর্যন্ত সড়কের ঘাঘড়া এলাকায় কাদামাটির স্রোত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের চিহ্ন সম্পূর্ণ মুছে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত ও ধ্বংসাবশেষ আচ্ছাদিত সড়ক মেরামত করে চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়ক কবে নাগাদ চালু হবে এ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন কিছুই বলতে পারছে না। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা নাগাদ মঘাইছড়ি থেকে রাঙামাটির দিকে মানিকছড়ি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রমকালে দেখা গেছে সর্বমোট এক কিলোমিটার অংশ ছাড়া বাকি ১৯ কিলোমিটার অংশই ভয়াবহ ভূমিধসে বিধ্বস্ত। মানিকছড়িতে একটি বিপদজনক গিরিপথে স্তূপীকৃত কাদামাটি ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ পেরিয়ে জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয় জনগণ জানান, এই জঞ্জাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ধসে পড়া মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে মারা যান দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। গতকাল দুপুরেও উদ্ধারকারীরা কাদার স্রোতের ভেতর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করছিলেন। সকাল ৯টায় মঘাইছড়ি অংশ দিয়ে রাঙামাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দেখা যায় একটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে সেনা সদস্যরা বিধ্বস্ত সড়ক জঞ্জালমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর ১৯ কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট মো. টিপু সুলতান ইত্তেফাককে বলেন, ধসে পড়া মাটি, পাথর, গাছপালা অপসারণ করে ভাঙা ফাটল মেরামত করে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের এই ২০ কিলোমিটার অংশ কবে নাগাদ সচল করা যাবে তা বলা কঠিন। দেখা গেছে মঘাইছড়ি ও ঘাঘড়া এলাকার সড়ক পার্শ্বস্থ অসংখ্য বাড়িঘর রাস্তা দোকানপাট যানবাহনের গ্যারেজ পাহাড়ধসের মাটিতে ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে।
ঘাঘড়া বাজারের চায়ের দোকানি নেহার কান্তি দেওয়ান (৪৭) ইত্তেফাককে জানান, পাহাড় ধস, পাহাড়ি ঢল এবং ভয়াল কাদার স্রোতে সড়ক পাশের শত শত ঘরবাড়ি দোকানপাট নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় অধিবাসী রাজু চাকমা (৪৮) জানান, রাঙামাটির বিগত ৫০ বছরের জানা ইতিহাসে এরকম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেউ কখনো দেখেনি। সুত্র : ইত্তেফাক




