শিরোনাম

রংপুরে হর্র্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাহুল সরকার : রংপুর নগরীর বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতিতে ভরা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান তত্ত¡বিদ নূর আলমের
বিরুদ্ধে গোপনে গাছের চারা পাচার ও বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন।
জানা গেছে, গত ১ জুলাই উপ-পরিচালকের অনুপস্থিতির সুযোগে উদ্যান তত্ত্ববিদ নূর আলম হটিকালচার থেকে গোপনে ৪৫০টি গাছের চারা গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই লক্ষ্যে তার ভাই হাফিজুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে একটি ভটভটিতে করে লিচু, আম, মালটা ও লটকনসহ প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের গাছের চারা পাচার করেন। চারা গাছ নিয়ে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার পথে গঙ্গাচড়ার মৌলভীবাজার নামক স্থানে স্থানীয় জনতা ওই ভটভটি আটক করে। এসময় হাফিজুলের কাছ থেকে চারা ক্রয়ের রশিদ কপি দেখতে চাইলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয়রা আটক করে হর্টিকালচার সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে সে ও তার ভটভটির চালক অকপটে স্বীকার করে উদ্যান তত্ত¡বিদ নূর আলম বিনা রশিদে কোনো টাকা ছাড়াই এসব গাছের চারা দিয়েছেন।
এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- শুধু হর্টিকালচার সেন্টার থেকে গাছের চারা পাচার ও গোপনে বিক্রির ঘটনা ঘটছে না। কয়েকজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিধি লক্সঘন করে চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় সেন্টারের আশপাশে ব্যক্তিগত নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তারা বেশির ভাগ সময়ই অফিসের দায়িত্ব পালন না করে বাইরের নার্সারিতে চারা বিক্রিতে ব্যস্ত থাকেন।
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের দাবি- হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, আজিজার রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফ মিলে বুড়িরহাটের চব্বিশ হাজারিতে ও গঙ্গাচড়ার চেংমারিতে অন্যান্য নার্সারি গড়েছেন। এসব নার্সারির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। সম্পূর্ণ
অবৈধভাবে দিনের পর দিন চাকরির দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত নার্সারির ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে তারা ব্যস্ত থাকেন।
অভিযোগের ব্যপারে মুখ খুলতে নারাজ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা। রশিদ ছাড়া গাছের চারা বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেখানকার উদ্যান তত্ত¡বিদ নূর আলম। তিনি বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি চারাগুলো ডেলিভারি দিতে গিয়ে রশিদ দিতে ভুলে গেছি। পরে ১৮ হাজার টাকার রশিদ করেছি। তারপরও সবাই আমাকে সন্দেহ করছে। নূর আলম তিন মাসে আগে কক্সবাজার থেকে বদলি হয়ে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। নিজের ছোট ভাইকে নার্সারি তৈরির জন্য সাড়ে চারশ গাছের চারা
দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। অনিয়ম-দুর্নীতির কথা শুনেছি। অনেকে লিখিত অভিযোগও করেছেন। তবে রশিদ ছাড়া গাছের চারা বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সকল স্টাফদের নিয়ে মিটিং করেছি। আর এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button