
রতন রায়হান, রংপুর: শিশু মুন্নির আকুতি, ‘আমি আবার স্কুলে যেতে চাই’ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মুন্নি আক্তার।
বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে। কিন্তু সন্তানের জীবন যখন টাকার অভাবে চোখের সামনে শেষ হতে থাকে, তখন তাদের কী করার থাকে। এমনই এক হৃদয় বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি শিশু মুন্নি আক্তার।
মুন্নি জানায়, আমি বাঁচতে চাই আমাকে বাঁচান। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি কোন কিছু খাইতে পারি না। আমি সুস্থ হয়ে আবারো স্কুলে যেতে চাই।
কেউ দেখতে আসলেই এভাবেই কেঁদে কেঁদে বাঁচার আকুতি জানায় ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মুন্নি আক্তার। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা আনারুল ইসলাম।
তবে সবার সহযোগিতায় বাঁচতে পারে শিশু মুন্নির জীবন। রংপুর নগরীর উত্তম হাজিরহাট জোলাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আনারুল ইসলামের মেয়ে মুন্নি আক্তার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পেটের ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধে। সেখান থেকেই দেখা দেয় ব্লাড ক্যান্সার। প্রথম দিকে কিছুটা সুস্থ হলেও এখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ৬০ শতাংশ ক্যান্সারের জীবাণু।
মুন্নির বাবা দিনমজুর। দিন আনে দিন খায়। মাথা গোজার ঠাই নেই। একদিন কাজ না করলে হাঁড়িতে চুলা জ্বলে না। না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। অভাবের সংসারে তিন মেয়ে এক ছেলে শিশু মুন্নির চিকিৎসা করতে গিয়ে ভিটে মাটি সব কিছু শেষ হয়েছে।
ঘরে জমানো টাকাসহ ১০ লাখ টাকার উপরে চিকিৎসা করতে খরচ হলেও অসুস্থ জীবনে ফেরেনি মুন্নি। ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। সেই সঙ্গে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মুন্নির মা। প্রতিবেশীরা বলছেন,এই অসহায়িতার মাঝেই একটাই ভরসা দেশের সহৃদয়, বিত্তবান ও সরকারের সহানুভূতি। বাঁচার শেষ চেষ্টায় আকুতি জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরাও।
পরিবারের সজনরা বলেন, মুন্নি অসুস্থ তিন বছর থেকে। এরপর থেকেই স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে যায় তার। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও সুস্থ হয়নি মুন্নি আক্তার। ব্লাড ক্যান্সারের কথাটি জানাজানি হলে ভেঙ্গে পড়েন মুন্নির বাবা-মা।
রংপুর নগরীর পূর্ব মন্থনা রেজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিশু মুন্নি আক্তার। ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছেন বিগত তিন বছর থেকে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা আনারুল ইসলাম। তবে মুন্নি সুস্থ হয়ে আবার স্কুল ফিরতে চান। মুন্নির এই স্কুলে যাওয়ার স্বপ্নটি কে পূরণ করবে। এ কারণেই হতাশ তার পরিবার পরিজন।
মুন্নির বাবা আনারুল ইসলাম বলেন, মেয়ের চিকিৎসার পিছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে তবু সুস্থ হয়নি। এখনো অনেক টাকা পয়সার দরকার। কোথায় পাব এত টাকা পয়সা। অর্থের অভাবে মনে হয় মেয়ের চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে এই ছোট্ট শিশুটি বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণ হবে।
রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন জানান, অসুস্থ, অসহায় ও ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। অকালে কোন শিশুর যেন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঝড়ে পড়ে না যায় এজন্য আমরা সবদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করছি। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মুন্নির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ আবেদন করেনি। আবেদন করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




