
রতন রায়হান, রংপুর: রংপুর-৬ আসনে ধানের শীষের দুইটি ব্যালট এবং গণভোটের চারটি ব্যালট উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে গেলে ইউএনওকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার পথে ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত অনুযায়ী, ধানের শীষের দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। যেখানে ০৩৮৫১৭ উল্লেখ আছে। অপর ব্যালটে ০৪৬৩২৯ উল্লেখ আছে। উদ্ধার করা ব্যালটগুলোর মধ্যে দুটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের, দুটি ‘না’ ভোটের। যেখানে প্রত্যেকটি ব্যালটের বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনে সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ভোটের দিনেই গণনা শেষ হওয়ার পরেও আবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে গণনায় গড়মিল পাওয়া গেছে। ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম একাধিক ভোটের বিজয়ী হলেও তাকে হারানোর পরিকল্পনা থেকে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে বলে বলেন স্থানীয়রা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যালট উদ্ধারের সুষ্ঠু সমাধান দিতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউএনওকে বের হতে দেবে না বলেন জানান এলাকাবাসী।
ওই এলাকার ফজলু মিয়া বলেন, আগে ওই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ব্যালট হাতে পায়। তারপর এলাকার লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে ইউএনওকে খবর দেওয়া হয়। পরে ইউএনও সেখানে গেলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে যায় ইউএনও।
হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ভোটার ৩৩৬৯, কাস্ট হয়েছে ২৪০২টি, ধানের শীষ পেয়েছে ১৫৩২ ভোট, দাড়িপাল্লা ৮৩২ ভোট। তবে ৭টি ব্যালট পাওয়া যায় নি বলে জানান প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ২৮৭ ভোট।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো রাহিদুজ্জামান বলেন, সকল এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি এবং সিল খোলা আমরা সবার সামনেই করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স ওপেন করি। ব্যালট গণনা করেই রেজাল্ট শিট রেডি করে তাদের হাতে দিই। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।
এ ব্যাপারে সরকারি রিটানিং কর্মকর্তা ও ইউএনও পপি খাতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




