রংপুরে ঠিকাদার সমিতির প্রতিকী অনশনে রসিক মেয়রের একাত্ততা প্রকাশ
রংপুর ব্যুরোঃ রড, সিমেন্ট, পাথর ও বিটুমিনসহ সকল নির্মাণ সামগ্রীর লাগামহীন মুল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সকল সিন্ডিকেট চক্রদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সমানে রংপুর ঠিকাদার সমিতির প্রতিকী অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) মেয়র মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
একাত্মতা প্রকাশ করে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তফা বলেন, নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে যেভাবে মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে সকলের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। রড, সিমেন্ট, পাথর ও বিটুমিনসহ সকল নির্মাণ সামগ্রীর লাগামহীন মুল্যবৃদ্ধির বিষয়টি জাতীয় সংসদের উত্থাপনের জন্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনকে অবগত করা হয়েছে। আশাকরি তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, ঠিকাদাররা উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে থাকে। আজ তারাই যদি না বাচে। তাহলে আমার মনে হয় আপনার সেই উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার যে টার্গেট তা সফল হবে না। আমার অনুরোধ থাকবে ঠিকাদার তারা আমাদেরই একটা অংশ। তাদের এই দাবীর যেন প্রতিকার তারা পায়, সেই দাবী জানান তিনি।
রংপুর ঠিকাদার সমিতির আহবায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম দুলাল এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোঃ রইচ আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিকী অনশনে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ ঠিকাদার আতিয়ার রহমান মুন্নু, সংগঠনের যূগ্ম আহবায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম মিঠু, খায়রুল কবীর রানা, আবু আহমেদ সিদ্দিক পারভেজ, আব্দুর রব রাঙ্গা, শফিকুল ইসলাম যাদু, জাহিদুল ইসলাম রুবেল, নওরোজ হোসেন পল, অরুপ দত্ত, সদস্য আবু সামা, রবিউল ইসলাম রবি, রাহাত ইসলাম রনি, আশরাফুল ইসলাম বাবু, রাকিবুল করীম লোটাস, শাহী আলম সাগর আহমেদ ও জহির হোসেন শুভসহ অন্যান্য ঠিকাদারবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রতিটি নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মুল্য দরপত্রের চুক্তি মুল্য থেকে গড়ে শতকরা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে ইটের মুল্য শতকরা ৪০ ভাগ, পাথরের মুল্য ৮০ ভাগ, রডের মুল্য ৫০ ভাগ, সিমেন্টের মুল্য ৩৫ ভাগ, বিটুমিনের মুল্য ৪০ ভাগ, মোটা বালুর মুল্য ৩০ ভাগ, এমএস সীটের মুল্য ৫০ ভাগ, ফ্লাটবার ও এ্যাংগেলের মুল্য ৫০ ভাগ, টাইলসের মুল্য ২০ ভাগ, থাই গ্লাসের মুল্য ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র কিনা এবং পরিকল্পিত কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মুল কারিগর ঠিকাদারা। এর সাথে ১০ লাখ ঠিকাদার এই শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণ শ্রমিক প্রায় এক কোটি মানুষ রয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর মুল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদারদের পক্ষে নির্মাণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।




