রংপুরে চালকের গলা কেটে অটোবাইক ছিনতাই চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে চালকের গলা কেটে অটোবাইক ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ । ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর ক্লুলেস ওই ছিনতাই এবং খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারসহ ছিনতাই করা অটোবাইকটিও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রংপুর ডিবি পুলশের পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রংপুর নগরীর সাতগাড়া এলাকার সবুজ পাড়ার ফরহাদ হোসেন, মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙ্গনী বাজারের সুলতান মিয়া, রংপুর নগরীর দূর্গাপুর বড়বাড়ির জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কলক এবং লুন্ঠিত বাইক ক্রয় বিক্রয়ে জড়িত রংপুর নগরীর গুড়াতিপাড়ার সাজেদুল ইসলাম সাজু এবং মিঠাপুকুর উপজেলার সংগ্রামপুরের সোহেল রানা ওরফে বাবু। আসামীরা তাদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে।
এর আগে সোমবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগীতায় রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রংপুর নগরী ও রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করে এবং লুন্ঠিত অটো রিস্কাটি উদ্ধার করে।
রংপুর ডিবি পুলশের পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া পাঁচঘরিয়ার সাইফুল ইসলামের আমবাগান থেকে হাফিজুর রহমানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে তার বাড়ি রংপুর নগরীর কেরানি পাড়ায়। তারা পিতার নাম আলম মিয়া। সে সেলিম নামে এক ব্যক্তির ব্যাটািরি চালিত অটো রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সে সেলিম মিয়ার গ্যারেজ থেকে অটো রিক্সা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে হাফিজুরের বাবা, অটো রিক্সার মালিক ও তার আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারেন তিনি খুন হয়েছেন।
এঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদš শুরু করে। কিন্তু পুলিশ মামলার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় এবং মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হওয়ায় রংপুরের পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মনিরুজ্জামান মামলাটি তদন্ত শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হন।
জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম আরো বলেন, ফরহাদ, সুলতান ও কলক তিন বন্ধু ঘটনার দিন রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে তারা অটো বাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যায়। তাদের সাথে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা হয় তাদের পরিচিত হাফিজুরের সাথে। তখন ফরহাদ, সুলতান ও কলক অটোবাইক ছিনতাইয়ের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাফিজুরকে কৌশলে রংপুর শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তারা হাফিজুরকে অবচেতন করার জন্য গোপনে কোমল পানীয় এর সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাওয়ায়। এতে হাফিজুর কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়ে। খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন রাস্তায় অটোবাইক রেখে তারা হাফিজুরকে পাশের আমবাগানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তার অটো বাইক ছিনতাই করে। তারা অটোবাইক চোর চক্রের সদস্য। এ চক্রের অন্য সদসদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে শরিফুল ইসলাম জানান।




