শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

যে কারণে বাদ পড়লেন বদি-রানা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও আমানুর রহমান রানা। বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত হওয়াতেই প্রার্থী হওয়ার দৌঁড় থেকে বাদ পড়েছেন তারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমনটাই জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য বদি বিভিন্ন জরিপে বহু এগিয়ে। তবু বিতর্ক এড়াতে তাকে এবার মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। ওই আসনে বদির স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাও একাধিক জরিপে এগিয়ে। আপনারা চাইলে আমি জরিপের ফল দেখাতে পারি। তবু কনট্রভার্সি (বিতর্ক) এড়াতে আমরা এবার তাকে মনোনয়ন দিচ্ছি না। যদিও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তার ভাইদের বিরুদ্ধে। ওই আসনে রানার বাবা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
কেন এত বিতর্ক? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি। নানা অভিযোগে তিনি দেশব্যাপী সমালোচিত। মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে তার নাম। অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন এবং কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এ সাংসদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। দীর্ঘ সময় জেলেও ছিলেন তিনি। তার হাতে প্রহৃত হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ অনেকে। ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একরাম হত্যাকাণ্ডেও তিনি কলকাঠি নেড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আব্দুর রহমান বদি ও তার স্ত্রী শাহীনা চৌধুরী

বিতর্কিত এই সাংসদ প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন এবারও। কিন্তু নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে রয়েছেন অনিশ্চয়তার কারণে প্রথম স্ত্রী শাহীনা চৌধুরীকে দিয়েও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করান। শেষ পর্যন্ত এমপি বদির আশঙ্কাই সত্যি হলো। বাদ পড়লেন তিনি, আর নৌকায় ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন স্ত্রী শাহীনা।
এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না টাঙ্গাইল-৩ আসনের এমপি আমানুর রহমান রানাও। তার বদলে নৌকার টিকেট পাচ্ছেন বাবা আতাউর রহমান খান।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এ হত্যায় আমানুর ও তাঁর ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর আমানুর গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
এ মামলায় আমানুর ছাড়াও তাঁর তিন ভাই—টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
গত ২০ মার্চ টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে মামলার বাদী নিহত ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদের জেরা করা হয়। এসময় বাদী অভিযোগ করেন, সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) ও তাঁর ভাইয়েরা বিভিন্ন সময় ফারুক আহমেদকে হত্যার হুমকি এবং টাঙ্গাইল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু তাঁরা এতই ভয়ংকর ছিল যে ভয়ে এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। এমনকি মামলার এজাহারেও এসব ঘটনা তুলে ধরার সাহস হয়নি।
প্রসঙ্গত, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তাঁর তিন ভাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button