যে কারণে তারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতায় বা ব্যবসা লোকসানের কারণে অনেকেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। ব্যাংকের খাতায় তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে নাম লেখান। এতে নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বা পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলাসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার শিকার হন ওই সব গ্রাহক। কিন্তু ইচ্ছা করেই ঋণখেলাপি হয়ে সুদ মওকুফের সুবিধাসহ নানা অনৈতিক সুবিধা নেন কিছু কিছু গ্রাহক।
বিআইবিএমের এক অনুসন্ধানে এমন ১৮ শতাংশ গ্রাহক পাওয়া গেছে, যারা ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হচ্ছেন। আর প্রায় ২৭ শতাংশ ব্যাংকেই ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করছে একশ্রেণীর অসাধু গ্রাহক। এসব কারণে ব্যাংকিং খাতে বেড়ে যাচ্ছে ঝুঁকির পরিমাণ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে এক্সপ্লোরিং বেরিয়ারস অব সাসটেইন্যাবল ফিন্যান্স ইন ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যান্ড পলিসি প্রোপজিশনস টু রিমুভ দ্য বেরিয়ার’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।
বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো: আহসান হাবীবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কুমার বিশ্বাস।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। ৪৯ শতাংশ ব্যাংকই গ্রামের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারে না; যা ব্যাংকগুলোর জন্য বড় বাধা। এ ছাড়া সমতা উন্নয়নেও পিছিয়ে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। দেশের ৫৯ শতাংশ ব্যাংকেই দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি তহবিল গঠন করতে হবে। তবে এটি ব্যাংকের ঘাড়ে চাপালে ব্যাংক করবে না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক একটা কোর ফান্ড গঠন করতে পারে। যেখানে সরকারের বাজেট থেকে কোর ফান্ডে টাকা জমা হবে। এই ফান্ডে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও টাকা জমা করবে। তিনি বলেন, শস্য বীমার যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ এতে কৃষকের ব্যয় বেড়ে যাবে।
বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে তা উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ট্রেনিংয়ের বাজেট রাখতে হবে। কিন্তু কোনো বোর্ড ট্রেনিংয়ের বাজেট রাখতে চায় না।
তিনি বলেন, ইদানীং সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বিরাজ করছে। কিন্তু টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবাইকে একই ছাতার নিচে আসতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে শস্য বীমা চালু করার কথা বলা হলেও তা আলোর মুখ দেখছে না। একই সাথে সবুজ অর্থায়নের কোনো প্রশিণ দেয়া হচ্ছে না। প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।




