আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুদ্ধে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ

পৃথিবীতে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া লোকের সংখ্যা এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, বলছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।

এক রিপোর্টে ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ পৃথিবীতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী বা কোনো দেশে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া লোকের সংখ্যা এখন ৬ কোটি ৫৩ লাখ। এর অর্ধেকেরই বয়েস ১৮-র নিচে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত রিপোর্টটি বলছে, এই প্রথম পৃথিবীতে মোট শরণাার্থীর সংখ্যা ৬ কোটি ছাড়ালো। গত বছর পৃথিবীতে প্রতি মিনিটে গড়ে ২৪ জন করে লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

শরণার্থীদের ৫৪ শতাংশই এসেছে মাত্র তিনটি দেশ থেকে – সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং সোমালিয়া।

 

দশ লক্ষাধিক শরণার্থী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে এসেছে
দশ লক্ষাধিক শরণার্থী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে এসেছে

সবচেয়ে বেশি শরণার্থী অবস্থান করছে তুরস্কে – মোট ২৫ লক্ষ। এর পরই রয়েছে পাকিস্তান এবং লেবানন।

অভিবাসন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা আইও এম বলছে, সিরিয়াসহ অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে গত কয়েক বছরে ১০ লাখ ১১ হাজারেরও বেশি অভিবাসী বিপদসংকুল পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে। অন্য কিছু সূত্রে অবশ্য এই সংখ্যা আরো বেশি বলে মনে করা হয়।

এরই সূত্র ধরে ইউএনএইচসিআরের প্রধান বলেছেন, শরণার্থী সংকট দেখা দেবার পর ইউরোপে উদ্বেগজনক এক জাতিবিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী সংকটের ফলে উগ্র-দক্ষিণপন্থী গ্রুপ এবং বিতর্কিত অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রতি লোকের সমর্থন বেড়েছে।

সারা পৃথিবীতে এখন প্রতি ১১৩ জনের একজন বাস্তুচ্যুত, বলছে রিপোর্টটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button