যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া মুখোমুখি, যুক্তরাষ্ট্রের পরিণাম জানালো রাশিয়া

সিরিয়ার রণক্ষেত্রে এখন মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। সিরিয়া সরকারের সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্রের ঘাঁটি সন্দেহে বেশ কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে হামলাটি চালানো হয়।গত সপ্তাহে সিরিয়ার দুমা শহরে হওয়া রাসায়নিক হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশ তিনটির পক্ষ থেকে দেয়া তথ্যে জানিয়েছে বিবিসি।
হামলার পর পেন্টাগন জানায়, রাজধানী দামেস্কসহ হোমস শহরের পাশের দু’টি এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই বোমা হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বোমা বিস্ফোরণ হওয়া তিনটি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেন: রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে বলে অভিযুক্ত দামেস্কের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র, হোমসের পশ্চিমে একটি রাসায়নিক অস্ত্র গুদাম, রাসায়নিক অস্ত্রের যন্ত্রপাতির আরেকটি গুদাম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট, এটাও হোমসের কাছে।
এ ঘটনার পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে ডজন খানেকেরও বেশি নিক্ষিপ্ত মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে সরকারি বাহিনী। হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্রপক্ষ রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তার দেশের বন্ধু দেশের ওপর এই হামলাকারীদের ‘বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় এ বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ওই সময়েই তিনি জানান, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং যৌথ অভিযান অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করায় হুঙ্কার তুলেছে রাশিয়া। সিরিয়ার রাসায়নিক হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে, ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল রাশিয়া। সিরিয়ায় যেকোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ আবারও প্রতিহতের ঘোষণাও দিয়েছে রাশিয়া।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে সেখানে বিষাক্ত ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়েছে। এবং এটা আসাদ বাহিনীই করেছে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
পার্লামেন্টের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ব্রিটেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অংশ নিতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার নতুন এক টুইট বার্তায় বলেন, আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলেও তা কখন, কোথায় হবে বিষয়ে কিছুই বলতে চান না তিনি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়ে অটল থাকার কথা জানান তিনি। একইদিন হোয়াইট হাউজে এক বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, দৌমায় রাসায়নিক হামলায় সিরিয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে ও নিবিড়ভাবে সিরিয়া ইস্যুটি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ইতোমধ্যে আইএসকে নির্মূল করেছি। সিরিয়া ইস্যুতেও খুব শিগগিরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস জানিয়েছেন, শিগগিরই হোয়াইট হাউজে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। সিরিয়ায় রুশ সেনা আছে উল্লেখ করে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো হামলা চালালে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা যে ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা জাতিসংঘ সনদের পরিষ্কার লঙ্ঘন। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা পশ্চিমা দেশগুলো নিয়ে খুবি উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে তারা যদি হামলা চালায় আমরা প্রথন থেকেই তা প্রতিহত করব।




