আন্তর্জাতিক সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান ‘কাগুজে বাঘ’

দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিবেশ আরো তীব্রতর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হেগের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে এই ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর। ওই রায় সত্ত্বেও বিতর্কিত ওই জলভাগে চীনের গতিবিধি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। সেই প্রেক্ষিতে চীনও পালটা উত্তেজক বিবৃতি দিতে শুরু করল।
বৃহস্পতিবার চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে আমেরিকা ও জাপানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে কটাক্ষ করা হল। পাশাপাশি তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের ওই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করতে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ যদি দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়া দিতে শুরু করে, তাহলে ‘পালটা হামলার’ জন্য তৈরি থাকা উচিত বেইজিংয়ের।
চীনা সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হেগের ট্রাইব্যুনালে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে রায় হওয়া সত্ত্বেও গতকাল ওই বিতর্কিত জলভাগে কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা দ্বীপে চীন তাদের দু’টি যাত্রীবাহী বিমান নামিয়েছে। এই দ্বীপগুলিতে নতুন ওয়ারফিল্ড তৈরি করেছে চীন। শুধু তাই নয়, তৈরি করা হয়েছে চারটি লাইটহাইজ। নির্মাণ চলছে আরও একটির। এই অবস্থায় দক্ষিণ চীন সাগরে বেজিংয়ের এইসব গতিবিধির বিরুদ্ধে এদিন প্রতিবাদ জানাল ভিয়েতনাম। তাদের বক্তব্য, এই গতিবিধির ফলে ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্ব ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
ভিয়েতনামের বিদেশমন্ত্রী বলেন, চীনের এই সব কাজকর্ম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হেগের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় যে তারা মানবে না, ইতিমধ্যেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছে চীন। আর নিজেদের এই অবস্থানের জানান দিতেই বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের গতিবিধি আরও তীব্রতর করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন কানুন লঙ্ঘন করার অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের ওই রায় চূড়ান্ত। তা মেনে চলাটা বাধ্যতামূলক। আমেরিকার মতোই চীনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে জাপানও। আমেরিকার ও জাপানের এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই এদিন পালটা প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর একটি সম্পাদকীয়তে। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি প্ররোচনার মাত্রা বৃদ্ধি করে, তাহলে নাড়শা দ্বীপ সংলগ্ন জলভাগে আরও বাহিনী মোতায়েন করা উচিত চীনের সেনাবাহিনীর। পালটা হামলার জন্য পুরোপুরি তৈরি থাকা উচিত।
সংঘাতের এই আবহে আবার মন্তব্য থেকে দূরে থাকার অবস্থান নিয়েছে আসিয়ান গোষ্ঠী। কূটনৈতিক স্তরের খবর অনুযায়ী, হেগের ট্রাইব্যুনালের রায় আসার পর তা নিয়ে একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের এই গোষ্ঠীর মধ্যে তা মতান্তর থাকায় সম্মিলিতভাবে কোনো বিবৃতি দেয়াটা সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। সেই সূত্রেই এই বিতর্কে মুখে কুলুপ এঁটেছে আসিয়ান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button