আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্তদের ভিড়

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এ রকম অবস্থায় লকডাউন পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯ হাজার ০১৫ জন। আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯২৩ জন। এ রকম এক অবস্থায় মানুষ খাবারের জন্য লাইন দিচ্ছেন ফুড ব্যাংকে।
এমন কতগুলো জায়গায় মানুষ বহুদূর থেকে গাড়ি চালিয়ে আসছেন ফুড ব্যাংকে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী পেনসিলভানিয়ার একটি ফুড ব্যাংকের সামনে ১০০০ গাড়ির লাইন পড়তে দেখা গিয়েছে। শহরে চলছে এ রকম আরও ৮টি ফুড ব্যাংক।
গ্রেটার পিটার্সবার্গ কমিউনিটি ফুড ব্যাংকের প্রধান ব্রায়ান গালিশ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ২২৭ টন খাবার তাদের ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ রয়েছেন যারা জীবনে প্রথমবার এ রকম ফুড ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। একসময় গৃহহীনদের জন্য এই খাবার দেওয়া হতো। এখন লকডাউনের সময়ে অনেকেই খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন না। তাদের জন্যই লাইন দীর্ঘ হয়েছে।
গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউ অরলিয়েন্স থেকে ডেট্রেয়েট পর্যন্ত বহু মানুষ বেতন পাননি। তারা এখন ফুড ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই অবস্থা। সান অ্যান্টনিও, টেক্সাসের মতো জায়গাতে কোনো কোনো ফুড ব্যাংকে ১০,০০০ গাড়ির লাইনও দেখা গিয়েছে। অনেকে পরিবারকে নিয়ে রাত থেকে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
বোস্টনে এক মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাজ বন্ধ। কয়েক মাস পেরিয়ে গিয়েছে। গতকাল এক মহিলাকে দেখলাম ১৫ দিনের বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। ওর স্বামীর কাজ নেই। বাড়িতে কোনো খাবার নেই।
ওহিও-র একটি ফুড ব্যাংক হল অ্যাকরন। সেই ব্যাংকের এক কর্মকর্তার দাবি, করোনার প্রকোপ ছড়ানোর পর ফুড ব্যাংকে খাবারের চাহিদা অন্তত ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
লকডাউনের ফলে রেস্টুরেন্ট বন্ধ। মানুষ গ্রসারি থেকে খাবার মজুত করছেন। রেস্টুরেন্টে বেঁচে যাওয়া খাবার আগে গরিবদের দেওয়া হতো। এখন তাও বন্ধ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button