আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাজ্যে দাস ব্যবসায়ীর মূর্তি নদীতে ছুড়ে ফেলল বিক্ষোভকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বাইরেও। যুক্তরাজ্যে এক দাস ব্যবসায়ীর মূর্তি উচ্ছেদ করেছে বিক্ষোভকারীরা।
কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের ১২তম দিনেও শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে।
এদিন অস্ট্রেলিয়া এবং স্পেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বর্ণবাদ বিরোধী সমাবেশ হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে দ্বিতীয় দিনের মতো বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয় মানুষ। শনিবার শহরটিতে এক দাস ব্যবসায়ীর মূর্তি উচ্ছেদ করে নদীতে ছুড়ে ফেলে তারা।
এদিন লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হয়। মধ্য লন্ডনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
ব্রিস্টলে বিক্ষোভকারীরা ১৭শ শতাব্দীর প্রভাবশালী দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড ক্লসটনের ব্রোঞ্জের বিশাল মূর্তি দড়ি দিয়ে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়।
জর্জ ফ্লয়েডকে যেভাবে মার্কিন পুলিশ হাঁটু চাপা দিয়ে দম আটকে হত্যা করে তেমনি ওই মূর্তিকে একইভাবে হাঁটু চাপা দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এরপর ক্লসটনের মূর্তিটি শহরের অ্যাভন নদীতে ছুড়ে ফেলা হয়। এ সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে শত শত বিক্ষোভাকারীরা বর্ণবাদ বিরোধী স্লোগান দেন। মূর্তিটির বিশাল বেদীটি এখন বিক্ষোভের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠকেরা।
ক্লসটন রয়েল আফ্রিকান কোম্পানির সদস্য ছিলেন। কোম্পানিটি আফ্রিকা থেকে অন্তত ৮০ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে বিক্রি করে বলে ধারণা করা হয়, যাদের মধ্যে ছিল অনেক নারী ও শিশুও।
১৭২১ সালে মারা যান এই দাস ব্যবসায়ী। সেই সময় শ্বেতাঙ্গ সমাজে দাতব্য কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখায় তার স্মরণে এই মূর্তিটি গড়ে তোলা হয়।
প্রসঙ্গত, মিনেপোলিসে গত ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে সিনেমাটিক কায়দায় হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তা। সেই সময়ে এই ঘটনায় সহায়তা দেয় আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে মার্কিন প্রশাসন সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button