যমুনার অকাল ভাঙ্গন

নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ॥ অসময়ে হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে অকাল ভাঙনের ভয়াবহ রুপ নিয়েছে যমুনা। গত এক সপ্তাহে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী দূর্গম চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়ছে। ভাঙ্গনের ফলে চরকাটারী ইউনয়িনের চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরবিার পরকিল্পনা কল্যান কেন্দ্র, চরকাটারী বাজার সহ প্রায় দেড় শতাধকি বাড়ি-ঘর ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে গত দুই দিন যাবত পানি কমতে শুরু করায়, ভাঙনের পরিমানও কমে এসেছে বহুগুণে।
অভিজ্ঞ মহলের মন্তব্য, প্রশাসনের অবহলোয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরকিল্পনা কল্যান কেন্দ্রটি ভাঙ্গনের আগে যদি নিলামে বিক্রি করা হতো, তাহলে সরকাররে রাজস্ব খাতে জমা হতো কয়েক লক্ষ টাকা।
এছাড়া যমুনা নদীর ভাঙ্গনের শিকার এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ ঘর-বাড়ি, জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙ্গনে ক্ষতগ্রিস্থ লোক জন যমুনা নদীর চরে নিজরে ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যেরে জমি ভাড়া নিয়ে বাড়ি ঘর জিনিস পত্র নিয়ে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নিচে মানবতের জীবন যাপন করছে।
শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- যমুনার ভাঙ্গনে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র, চরকাটারী বাজার, কাঁঠালতলি, বাগপাড়া, মন্ডলপাড়া, চরগোবিন্দপুর, লালপুর, কামার পাড়াসহ ৬/৭ টি গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ।
ভাঙন কবলিত চরগোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রফিক মৃধা জানান-নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গন শুরুর ফলে এই বাড়িতে আর থাকতে পারব কিনা এখন সেই দুচিন্তায় আছি। গৃহবধূ ওজিফা বেগম জানান-যমুুনা নদীর ভাঙ্গনে বাড়ি -ঘর জায়গা জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে কোন মতে থাকি।
চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক জানান- যমুনা নদীতে নতুন করে পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর ভাঙ্গনে শত শত বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি ও চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্র নদী গভেৃ চলে গেছে । এখন চরকাটারী বাজার, চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন নদী গর্ভে বিলীনের হুমকি মুখে। তবে গত বৃহস্পতিবার নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ভাঙনের পরিমানও কমে এসেছে।
এ বিষয় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান- চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্রটি যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ।
“চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্রটি” নদী গর্ভে বিলীন প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউর রহমান জানান, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগত করা হয়েছিল। এ নিয়ে কেন তারা পদক্ষেপ গ্রহন করেননি, তা আমার জানা নেই, এটা তাদের ডির্পাটমেন্টের বিষয়।




