
ময়মনসিংহে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার পর যুবলীগকর্মী শান্ত ও সাজ্জাদকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গোলাপজান রোডে একটি বাড়ি পোড়ানোর মামলার বাদী হজরত আলী মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে কলেজ রোড এলাকায় ওই মামলার আসামি আসাদুজ্জামান অপু ও মহানগর যুবলীগের সদস্য মরিুজ্জামান রনির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এসময় হামলাকারিরা বাদীর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং বাদীকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে বাড়ি পোড়ানো মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসাদুজ্জামান অপুকে আটক এবং বাদী হজরত আলীকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনার পথে রনির নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী পুলিশের কাছ থেকে আসামি অপুকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘এসময় পুলিশকে গালিগালাজ করা হয়। ওই সময় পুলিশের সংখ্যা ছিল কম, ৫-৬ জন। তাদেরকে শাঁসিয়ে দেয়া হয়। এদের মধ্যে একজনতো বলেই ফেলে, ফাঁড়ির সাব-ইন্সটেক্টর ফারুকের পায়ে গুলি কর।’
তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে আমরা আসামিদের গ্রেফতারে সোচ্চার হই এবং আসামি গ্রেফতারের প্রস্তুতি গ্রহণকালে একই গ্রুপ রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহানগর যুবলীগের সদস্য মরিুজ্জামান রনির নেতৃত্বে ১০/১২টি মোটরসাইকেলে ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে পড়ে এবং বাদীকে শার্টের কলার চেপে ধরে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তখন পুলিশ বাঁধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারিরা ফাঁড়ির চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। এঘটনায় শহরের অন্যান্য টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারিরা চলে যায়। এসময় একজন ধরা পড়ে। ব্রিফিংকালে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, সন্ত্রাসীদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবেই চিহ্নিত করবো। তাদের অন্য কোনো পরিচয় আমাদের কাছে মূখ্য নয়। শুনেছি তারা একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে। তাদের কার কী পদ আছে জানি না। হামলাকাদিদের মধ্যে অপু, রনি, শান্তর নাম পেয়েছি। এরা যে দলেরই হোক ছাড় দেয়া হবে না।
২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানান, মহানগর যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান রনির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। ঘটনাস্থল থেকে শান্ত নামে এক যুবলীগ কর্মীকে পুলিশ আটক করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শহর থেকে সাজ্জাদ নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মুনসুর আহমেদ জানান, হামলায় ২নং ফাঁড়ি ইনচার্জ ফারুক হোসেনসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়া ও আসামি ছিনতাই এবং ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও বাদীর ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে হযরত আলী বাদী হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় মহানগর যুবলীগের সদস্য মনিরুজ্জামান রনি, আসাদুজ্জামান অপু, সোহাগ, আটককৃত শান্ত ও সাজ্জাদের নাম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুত্র ঃ নয়া দিগন্ত




