
শ্যামনগর উপকূল থেকে কাজে সাতক্ষীরা এসেছেন আশিক, সবুজ ও শামীম। কাজের সঙ্গে তাদের মূল উদ্দেশ্য ঘোরাঘুরি। শহরের মানুষের কাছে খোঁজ নিতেই জানতে পারলেন এখানকার আলোচিত এক রেস্টুরেন্ট মৌবন এর নাম।
সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন মেঝেতে প্রায় গোড়ালি সমান পানির মধ্যেই চেয়ার-টেবিল পাতা রয়েছে। এটি কোন কোন রঙিন মাছের অ্যাকোরিয়াম নয়। নয় কোন মাছের চৌবাচ্চা। আর সেখানে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে খাবার খাচ্ছেন অতিথিরা। তারা তিন বন্ধু রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে আরও মজা পেলেন, কারণ মেঝের পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা রকম রঙিন মাছ।
সবুজ বলেন, খেতে খেতে অনুভব করলাম পায়ের পাতায় কে যেন চিমটি কাটল। নিচে তাকাতেই দেখি পা ছেড়ে পালিয়ে গেল দুই একটি মাছ।
মৌবন রেস্টুরেন্টটি সাতক্ষীরা শহরতলির বকচরা বাইপাস সড়কে অবস্থিত। ইতিমধ্যেই এর ব্যতিক্রমী আয়োজন অতিথিদের নজর কেড়েছে। এখানে খেতে আসা অতিথিদের কেউ কেউ ছবি তুলে ও ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় সারা দেশেই অল্প সময়ের মধ্যে বেশ পরিচিতিও পেয়েছে রেস্টুরেন্টটি। বিশেষ করে শিশুরা অভিভাবকদের সঙ্গে খেতে এসে রঙিন মাছের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বেশি মজা পাচ্ছে।
মৌবন রেস্টুরেন্টের মালিক দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখে এই আইডিয়া তার মাথায় আছে। এই রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন ঈদুল আজহার মাত্র দুই দিন আগে। কিন্তু ব্যতিক্রম বিষয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রচার করেন এখানে খেতে আসা অতিথিরা। এরপর থেকে ক্রেতাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রবাসী শাহাদাত হোসেন বলেন, সাতক্ষীরায় আমার বাড়ির পাশেই এ রকম একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে দেখে সত্যি আমি অবাক হয়েছি। পানির মধ্যে পা ডুবিয়ে চা-কফি অথবা অন্য কোন খাবার খাচ্ছি। পায়ের পাশে বিভিন্ন রঙিন মাছ ঘোরাঘুরি করছে। খেতে খেতে কখনো অনুভব করছি পায়ের পাতায় কে যেন চিমটি কাটল। নিচে তাকাতেই দেখি পা ছেড়ে পালিয়ে গেল রঙিন মাছটা। অসাধারণ অভিজ্ঞতা এভাবে খাবার খেয়ে। এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে।
সুত্র : দেশ রূপান্তর




