
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ফরিদপুরের বোয়ালমারীর গুনবহা গ্রামের মো. আতিয়ার শিকদারের ছেলে রাজিব শিকদার (৩২) পাড়ি জমিয়েছিল ইউরোপের দেশ উত্তর মেসিডোনিয়ায়। কিন্তু ভাগ্য তাকে সহায়তা করেনি। তাকে বরন করতে হয় নির্মম মৃত্যু। গত ১২ সেপ্টেম্বর মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তার পরিবারসহ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ১৯ দিন পর বৃহস্পতিবার (০২.১০.২৫) তার লাশ দেশে আসে। দুপুরে রাজিবের লাশ বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম।
জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাজিব শিকদার প্রায় চার মাস আগে ইউরোপের দেশ উত্তর মেসিডোনিয়ায় যায়। সেখানে তিন মাস কাজ করে সে। গত ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে কাজে যাওয়ার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। রাজিবের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের চেষ্টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজিবের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জোর চেষ্টা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা বিমান বন্দরে লাশ এসে পৌঁছায়। বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাশ নিয়ে দুপুর ১২ টায় গুনবহার বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পুরা এলাকা শোকে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ছোলনা সালামিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাদ আসর নামাজে জানাযা শেষে ছোলনা কবরস্থানে রাজিবের লাশ দাফন করা হয়। নিহত রাজিবের পিতা মো. আতিয়ার শিকদার এবং মা মমতাজ বেগম শোকের মাতম শেষে বলেন, শেষ পর্যন্ত আমার ছেলের লাশ ফিরে পেলাম। তার মরা মুখটা দেখতে পেলাম। মহান আল্লাহর নিকট ছেলের জান্নাত কামনা করেন। ছেলের লাশ ফিরিয়ে আনতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তাঁরা।




