মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে আলু উত্তোলন, দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

সাকিব আহম্মেদ বাপ্পি, মুন্সিগঞ্জে প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জে চলতি মৌসুমের আলু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু তোলার মৌসুম শুরু হওয়ায় ছয়টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জমি গুলো এখন কৃষকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। তবে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়াতে অনেক জমির আলু আকারে ছোট হয়েছে। সে সাথে দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে সদর উপজেলার আকালমেঘ, মাকহাটী, শিলইও টঙ্গীবাড়ী সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জমি থেকে আলু উত্তোলনে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। আলু উত্তোলন শুরু হওয়ায় কৃষকের বাড়ির গৃহিণী ও শিশুরা জমিতে নেমে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছেন। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার শ্রমিকরাও কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করে জমি থেকে আলু উত্তোলন, হিমাগারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
মুন্সিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ১৪৭ মেট্রিক টন আলু।
সদর উপজেলার চরকেয়ার ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক হাসেম বেপারী জানান, এবার তিনি আড়াই একর জমিতে আলু রোপণ করছেন। তবে সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় আলুর আকার ছোট হয়েছে। এছাড়া বাজারে আলুর দাম উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। এতে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
আকালমেঘ এলাকার কৃষক নুর হোসেন জানান, যে-সব এলাকায় জমি উঁচু এবং আগে রোপণ করেছে, তারা এখন আলু উত্তোলন করে নিজ বাড়ির আঙিনায় নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি তা সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ গুলোতে মজুদ করছেন।
তিনি আরও জানান, এখন প্রতি বস্তা আলু পাঁচশো থেকে সাড়ে পাঁচশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠবে না বলে মনে করেন তিনি।
আনন্দপুরের কৃষক আলি আজগর মুন্সি আলুতে লোকসানে হওয়ার আশঙ্কা এ বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করেছেন বাকি দেড় একর জমিতে সরিষার আবাদ করেন তিনি। তিনি বলেন, আলু অবস্থা সবসময়ই আশঙ্কাজনক। কিন্তু তেলের দাম তো বেড়েই চলছে। তাই আলুর চাষ কমিয়ে দিয়ে সরিষা করেছি। এতে অনেকটাই লাভবান হয়েছি।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। চলতি মার্চ মাস থেকে মুন্সিগঞ্জ সদর, সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গিবাড়ী, গজারিয়া ও শ্রীনগর উপজেলা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আবাদ করা জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরু করেছে কৃষকরা। চলবে পুরো মাসজুড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর আলুতে কৃষকরা লাভবান হয়নি। তাই এ বছর সরিষা, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল করেছেন। ফলে এ বছর আলু চাষ কমেছে। কৃষকদের কথা চিন্তা করে আলুর একটি অংশ বিদেশে রফতানি করা হবে। এতে কৃষক লাভবান হবেন’


