মুক্তি পেল ফিলিস্তিনের সেই কিশোরী

অহেদ তামিমি নামের ফিলিস্তিনি প্রতিবাদী কিশোরী ইসরাইলের কারাগার থেকে আট মাস পর মুক্তি পেয়েছে। ইসরাইলি সেনাদের মুখে থাপ্পড় মেরে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিল এ ফিলিস্তিনি কিশোরী।
গত ডিসেম্বর মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলের বর্বর সেনারা আটক করেছিল ফিলিস্তিনের এ কিশোরীকে। সে সময় তামিমি ইসরাইলের দুই সেনার মুখে থাপ্পড় মারে এবং সেই ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে সেনাদের ওপর হামলা, উসকানি দেয়া এবং ইসরাইলি সেনাদের কাজে বাধা দেয়াসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়।
গত মার্চ মাসে ইসরাইলের সামরিক আদালত তাকে আট মাসের কারাদণ্ড ও দেড় হাজার ডলার জরিমানা করে। একই ঘটনায় তার মাকে আটক করে ইসরাইলি সেনারা এবং তাকেও আট মাসের কারাদণ্ড দেয়।
করাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজ গ্রাম নাবি সালেহতে পৌঁছে তামিমি শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সামান্য আলাপ করে। এই গ্রামেই সে সময় ইসরাইলি সেনাদের হাতে দুই ফিলিস্তিনি শহীদ হন।

শহীদদের বাড়িতে গিয়ে তামিমি বলেছে, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
আহেদ তামিমি যে এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটাল, তা নয়। নয় বছর বয়স থেকে সে ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে শামিল হয়। ২০১৪ সালে বাড়ির কাছ থেকে ছোট ভাইকে ইসরায়েলি বাহিনীর লোকজন ধরে নিতে গেলে সে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু এতেও আটকাতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের হাত কামড়ে ধরেছিল সে। আর তার পুরো পরিবারই প্রতিবাদী। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমিও তাঁদের গ্রামে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত, যিনি সব সময়ই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বলে যান।
কী কারণে আহেদ তামিমি এত খেপে গিয়েছিল, তা বাবা বাসেম বলেন, কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহেদের ১৪ বছর বয়সী চাচাতো ভাই গুলিবদ্ধ হয়। প্রায় সমবয়সী ভাইয়ের এমন অবস্থা ক্ষুব্ধ করে তুলছিল তাকে। আর সে কারণেই সে প্রতিবাদ করেছে।



