sliderস্থানিয়

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন ভাড়া দিলেন সাবেক ইউএনও, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদরে বাজারের সাথে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন ভাড়া দিলেন বিয়াম স্কুল এর নামে তাহিরপুর উপজেলার সদ্য বিদায়ী সাবেক ইউএনও আবুল হাসেম।

এনিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাগনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে কোনো আইনে এমন কাজ করলেন তা নিয়ে সচেতন মহল ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

বুধবার সকালে উপজেলার সকল মুক্তি যোদ্ধাগন ঐক্য বদ্ধ হয়ে বিয়াম স্কুল নামে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কোন আইনে ভাড়ার চুক্তি করলেন তা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করার আয়োজন করে। এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধ সন্তানগন সবাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের এসে জড়ো হয়।

এই সংবাদ জানাযানি হলে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান মানিক মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলেন এবং এর সুষ্ঠু সমাধান করার সত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করার জন্য আহবান জানান।

এতে সকল মুক্তিযোদ্ধাগন ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গন ঐক্যমত পোষন করায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ।
তিনি আরও জানান,যদি আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন বিয়াম স্কুলের নামে দেয়া ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হবে এবং পূর্বে যে ভাবে চলেছে সে ভাবেই চলতে হবে। না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো। কোনো ভাবেই তা আমরা মেনে নিব না। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানগন ঐক্য বদ্ধ,এর কোনো ছাড় দেয়াও হবে না। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলীপি দিব।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাঘা জানান, আমাদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন দুই তলা। দ্বিতীয় তলায় আমার অফিস ছিল। আর নিচ তলায় শুরু থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কে ভাড়া দিয়ে আমরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধা দের স্বার্থে ও বিপদ আপদের সময় এই ভাড়ার টাকা থেকে সহায়তা পেয়েছি। এই ভাড়া সোনালী ব্যাংক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একটি একাউন্ট আছে সেখানে জমা হয়। এখন কোন স্বার্থে তাহিরপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিয়াম স্কুলের নামে দিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির জানান,১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এই ভবনের পূর্বে একটি টিনসেট ঘর নির্মান করি সকল মুক্তিযোদ্ধাগন। পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে একতলা ভবন নির্মাণ করে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়,পরে দুই তলাভবন করা হয়। এরপর দুই তলা ভবনে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করি। আর নিচ তলায় ভাড়া দেয়া হয়। এই ভাড়া আমাদেরই স্বার্থে কাজে লাগতো। আমাদের ভবন আমাদের কাছে থাকবে একটি স্কুলের নামে ভাড়ার চুক্তি করলেন কিভাবে। আমাদের সাথে না আলোচনা করেই আমাদের কথা চিন্তা না করেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button