মিয়ানমার সেনাদের শতাধিক ফেসবুক বন্ধ

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের ১৩৫টি এ্যাকাউন্ট, ৪২৫টি পেজ, ১৭টি গ্রুপ ও ১৫টি ইন্সটাগ্রাম এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। এই এ্যাকাউন্ট ও পেজ গুলোর সাথে দেশটির সেনাবাহিনীর সংম্পর্ক রয়েছে বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানান। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম রয়র্টাস বুধবার তাদের এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করে।
মার্ক জাকারবার্গ মিয়ানমারের চলমান জাতিগত সহিংসতাকে ‘ভয়ানক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সেজন্য তার কোম্পানি সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের সঙ্গে ভাষার বিষয়টি জড়িত রয়েছে। ফলে ফেসবুক বার্মিজ ভাষায় দক্ষ আরও কয়েক ডজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিচ্ছে যারা কনটেন্ট পর্যালোচনায় সক্ষম হবে। কেননা, স্থানীয় ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিদের ছাড়া এসবে পদক্ষেপ নেয়া কঠিন। এই বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছি। এছাড়াও ঘৃণা ছড়ানো ব্যক্তিদের খুঁজেবের করতে মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের সাথে এক সঙ্গে কাজ করছে ফেসবুক।
এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্ক আরো বলেন, এটা এজন্য করা হচ্ছে যেন, সুনির্দিষ্ট কিছু কন্টেটের বদলে বরং বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দেয়া যায়। মিয়ানমার এবং অন্যান্য যেসব দেশে এ ধরনের ইস্যু রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যাতে এমন কিছু না ঘটে সেজন্য ফেসবুকের একটি দল সব সময় কাজ করছে।
দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে রোহিঙ্গা গণহত্যায় সাধারণ বৌদ্ধদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল। আর এই ধরনের উসকানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।
মার্কিন সিনেটের কমার্স এবং জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে এক ম্যারাথন শুনানিতে মার্কের কাছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুকের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এপ্রিলে।
আবার মিয়ানমারের গণহত্যাকে উস্কে দেওয়ার জন্য ফেসবুকের ভূমিকাকে দোষারোপ করে জাতিসংঘের তদন্তকারীর এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন ভারমন্টের সিনেটর প্যাট্রিক জে লেয়াহি। ২০১৬ সালে ফেসবুকে এক বার্মিজ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও আলোকপাত করেন এই সিনেটর।
গত এপ্রিলে এই সব সমালোচনার মুখে সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেন। সেজন্য বার্মিজ ভাষায় কনটেন্ট পর্যালোচনায় সক্ষম অধিক সংখ্যক ব্যক্তিদের নিয়োগদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এবং ঘৃণা ছড়ানো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বন্ধ করতে নাগরিক সমাজের সাথে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে গত আগস্ট ও অক্টোবরে রোহিঙ্গাবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে অনেক অ্যাকাউন্ট ও পেজ বন্ধ করে দেয়া ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এবার প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারে তৃতীয়বারের মত এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলো।




