আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

মিয়ানমার নির্বাচন : করোনার মধ্যে সু চি’র প্রচারণা শুরু

করোনা মহামারির মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। আলজাজিরার খবর।
রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনায় অং সান সূচির ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ।
কিন্তু দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর।
দেশের শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে তার মর্যাদা আরও সুনিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য রাজধানী নেপিদাও’তে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডি’র অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন সু চি।
এ সময় তার মুখে ছিল লাল রঙের মাস্ক, ফেস শিল্ড এবং হাতে রাবারের গ্লাভস। লাল রঙের দলীয় পতাকা উড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জয়ই গোটা দেশের বিজয় হোক, এটিই আমরা চাই।’
এদিকে করোনার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিয়ানমার সরকার। কোনো প্রচারণায় ৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করা যাবে না। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
যদিও সু চি’র পক্ষে বড় ধরনের মোটরবাইক শোভাযাত্রা বের করে সমর্থকেরা, যাতে কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি।
করোনা প্রতিরোধে বিধিনিষেধ আরোপ করা এলাকাগুলোতে যেমন রাখাইন রাজ্যসহ অনেক জায়গায় কোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। মানুষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে।
ইতিমধ্যে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আগের নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও নাগরিকত্ব ইস্যুতে এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার।
২০১৫ সালে বড় ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চির দল এনএলডি।দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেবার।
যদিও প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় মিয়ানমারের সংবিধান অনুসারে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।
তাই তার জন্য স্টেট কাউন্সিলর পদটি সৃষ্টি করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান। নির্বাচনে জিতে এনএলডি ক্ষমতায় আসলেও সরকারের ওপর একচ্ছত্র প্রভাব থাকে সামরিক বাহিনীর।
১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি দেশটির ৮১ শতাংশ আসন পায়। কিন্তু সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তোলে।
এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দী ছিলেন সু চি। যার জেরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে বলিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেন।
যদিও ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গোটা বিশ্বে তিনি চরমভাবে সমালোচিত হন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখায় তাকে দেয়া বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও ফিরিয়ে নেয়া হয়, দাবি উঠে নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ারও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button