আন্তর্জাতিক সংবাদ

মিয়ানমারে সুচি ও সেনাবাহিনী সম্পর্ক বিপজ্জনক মোড়ে

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে অং সান সুচি যে ভূমিকা নিচ্ছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমায়ারের সেনাবাহিনী এসব পছন্দ করছে না, এটা এখন একরকম ওপেন সিক্রেট।
কিন্তু থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ব্যাংকক পোষ্টে শনিবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফিরিয়ে আনার ইস্যুতে সূচি এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।
বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ল্যারি জ্যাগানের লেখা এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা এবং নির্যাতনের তদন্ত সহ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে জাতিসংঘের সাথে যে বোঝাপড়া সুচির সরকার করেছেন তা নিয়ে সেনাবাহিনী সন্দিহান। বিশেষ করে তদন্ত কমিটিতে একজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ রাখার বিষয় নিয়ে তীব্র আপত্তি করছে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর ‘রেডলাইন’
ব্যাংকক পোস্টের রিপোর্টে সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একজন সাবেক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এটা (তদন্তে বিদেশীকে রাখা) সেনাবাহিনী কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।’ এই রেড-লাইন অতিক্রম করা যাবেনা।
শীর্ষ সেনা কম্যান্ডের সাথে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, অং সান সুচি এবং জেনারেল মিন অং লেইেনর এর মধ্যকার এক বৈঠকে অত্যন্ত্য ক্রুদ্ধ ছিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। তিনি সুচিকে অভ্যুত্থানেরও হুমকি দেন। সেনাপ্রধান সুচিকে বলেন, ‘আপনি যদি সরকার চালাতে না পারেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা ফিরিয়ে নেবে।’
তবে মি জ্যাগান তার রিপোর্টে লিখেছেন, সেনাপ্রধান কি পুরো দেশের ক্ষমতা নেওয়া কথা বলেছেন নাকি শুধু রাখাইনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী যদি মনে করে দেশে বা দেশের কোনো অঞ্চলে নিরাপত্তার হুমকি তৈরি হয়েছে, তাহলে তারা পুরো দেশের বা ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসন চালানোর অধিকার নিয়ে নিতে পারবে।
ব্যাংকক পোস্ট বলছে, ঐ বৈঠকটি হঠাৎ করে শেষ হওয়ার পর সূচির বেসামরিক প্রশাসন এবং সেনাপ্রধান পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। রাজধানী নেপিদোতে সম্ভাব্য গণ্ডগোলের জন্য অনেক বড় বড় শহরে থেকে সেনাবাহিনীকে গুটিয়ে আনা হয়। রাখাইন ছাড়া অন্যান্য সীমান্তে অভিযানে রাশ টানা হয়।
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তবে, ব্যাংকক পোস্টে এও লেখা হয়েছে যে সুইস কূটনীতিক ক্রিস্টিন বার্গনার, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসাবে গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন, তিনি উত্তেজনা প্রশমনে করার চেষ্টা করেছেন। তার সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর সেনাপ্রধান রাখাইনে হত্যা-নির্যাতন তদন্তে একজন বিদেশীকে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজী হন।
সেনা অভ্যুত্থানের হুমকি প্রসঙ্গে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে, অং সান সুচির অফিসের মুখপাত্র জ থে বলেন, এমন হুমকির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো এই রিপোর্ট নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button