মিঠাপুকুরে রোকেয়া দিবস পালিত, সোদপুর থেকে রোকেয়ার মরদেহ মিঠাপুকুরে আনার দাবী

মিঠাপুকুর( রংপুর) প্রতিনিধি ও রংপুর ব্যুরোঃ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। তার জীবনকর্ম নিয়ে গবেষণায় চালু থাকা স্মৃতিকেন্দ্রে নেই ন্যূনতম উপকরণ। কলকাতা থেকে পায়রাবন্দে রোকেয়ার দেহাবশেষ আনার উদ্যোগটিও লালফিতায় বন্দী।
৯ ডিসেম্বর একই দিন এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতা আর নানা আশ্বাসে কেটে যায়। রোকেয়াবাসী জানে না তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আলো ফুটবে কবে।
বাঙালির আধুনিক যুগের ইতিহাসে যে নারীর নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বাঙালি সমাজ যখন ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা আর সামাজিক কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল, সেই সময় বেগম রোকেয়া বাংলার মুসলিম নারীসমাজে শিক্ষার আলো নিয়ে এসেছিলেন। বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ।

যথাযোগ্য মর্যাদায় নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার পৈত্রিক নিবাস মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে দিনটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রংপুরের জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হয়। শেষে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মধূসুদন রায়, মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান। বক্তাগণ বেগম রোকেয়ার মরদেহ ভারতের সোদপুর থেকে মিঠাপুকুরে এনে সমাধিস্থ করার দাবী জানান।



