মা ও দুই ছেলের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই গাড়ি ও চালক ৩দিনেও আটক করতে পারেনি পুলিশ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে প্রাইভেট কারের চাপায় গত শুক্রবার রাতে প্রাণ হারান মা ও দুই ছেলে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটিকে ঘটনাস্থলে প্রায় দুই ঘন্টা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রাতেই কোনো এক ফাঁকে গাড়িটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং চালকও উধাও হয়ে যান। এরপর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও সোমবার পর্যন্ত গাড়িটির কোনো হদিসই করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি চালককেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, থানা পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কেন সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেওয়া সেই গাড়িটি আটক করতে পারলো না? এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের কর্মীরা। তবে পুলিশ বলছেন, গাড়িটি ধরতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢুলিভিটা-ধামরাই বাজার সড়কের মমতাজ ডায়াবেটিস হাসপাতালের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আরোহী ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিন খানের স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৪৫) ও তার দুই ছেলে নাসিব খান (২০) ও ছোটন খান (১৮) নিহত হন।
ঘটনাস্থলের পাওয়া ছবিতে দেখা যায় গাড়িটির নম্বর (ঢাকা মেট্রো- চ ১৯-০২৭৭)। তবে ওই গাড়িটির মালিকের পরিচয় জানায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নাসির উদ্দিন খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহত ছোটন খানের চাচাতো ভাই হৃদয় খান বলেন, থানা পুলিশ স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও গত তিনদিনেও প্রাইভেটকার ও চালককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তারা বলেছে চেষ্টা করছেন। যে কোনো মূল্যে গাড়ি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ঘাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ধামরাই উপজেলা শাখার সভাপতি নাহিদ মিয়া বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো দুর্ঘটনা কবলিতদের উদ্ধার করে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থার বিষয়টি। কিন্তু পুলিশ কেস মনে করে অনেকে এগিয়ে আসতে চায় না। পুলিশ দ্রুত না পৌঁছালে দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিদের মালামাল অনেকে হাতিয়ে নেয়। আবার ঘাতকও পালানোর সুযোগ পায়। এই ঘটনায় তেমনই হয়েছে। এ পর্যন্ত গাড়ি ও চালক কিছুই আটক হয়নি।
ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বলেন, তিনজন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এখনো ঘাতককে শনাক্ত করা যায়নি। চেষ্টায় আছি।’




