sliderপ্রবাসশিরোনাম

মালয়েশিয়ায় অপহরণের পর দেশে মুক্তিপণ, সেই প্রবাসীর লাশ উদ্ধার

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় সোহেল (৩৯) নামে এক যুবককে অপহরণের পর দেশে তার স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেছিল অপহরণকারীরা। কিন্তু মুক্তিপণ দিয়েও রক্ষা হলো না। ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার পর স্বজনরা জানতে পারেন সোহেলকে খুন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের অদূরে সেরিকাম বাগানের তামিং জায়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১০ নম্বর রোডের একটি কারখানার পেছনের জঙ্গল থেকে ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোহেল ঘাটাইলের দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের হতভাগা আহাম্মদ মিয়ার ছেলে। সোহেলকে কয়েক বছর আগে ধারদেনা করে প্রবাসে পাঠান তার পরিবার। অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সোহেলের প্রবাসী স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সোহেল ১৫-১৬ বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকেন। সেখানে তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন। ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আমির হামজা বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কুয়ালালামপুরের তামিলজায়া এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে সোহেল মিয়াকে অপহরণ করা হয়। তাকে ‘মেরে ফেলারও হুমকি’ দেওয়া হয়।
পরদিন সকাল ১০টার দিকে সোহেল তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে দেশে ফোন করে জানায়, আমি বিপদে আছি আমাকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে। আমার জন্য ১০ লাখ টাকা পাঠাও। ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশের একটি নাম্বার দিয়ে বলে যে এ নাম্বারে টাকা না পাঠালে আমাকে মেরে ফেলা হবে। পরে সোহেলের বোন জামাই বিল্লাল হোসেন ঘাটাইলের মসজিদ মার্কেটের একটি দোকান থেকে বরিশালের একটি ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণও পাঠায়। টাকা পাঠানোর পর ওই নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় এর আগে আরেকটি নাম্বার দিয়ে কথা বলেছিল। পরে ওই নাম্বারে কথা বলে সোহেলকে ছেড়ে দিতে বলা হয়।
একাউন্টের সূত্র ধরে সোহেলের বোন জামাই বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ৪ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় একটি মামলা করেন। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বরিশাল ধাপাতলি মেট্রোপলিটন হোটেল এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া মামুন ও আলমগীর নামের দুই যুবককে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মামুনের বাড়ি বরগুনা বলে জানা গেছে। অপর আলমগীর নামের যুবকের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুলিশ গ্রেফতারকৃত নাসিরকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর রিমান্ডের শুনানি হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়াও ওই ঘটনায় মালয়েশিয়ায় ২টি মামলা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button