
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত মোহামেদ মুইজু জয়ী হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া দাবি করেছে। এতে বলা হয়, শনিবার অনুষ্ঠিত ‘রান-অফ’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মালের মেয়র এবং প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপস (পিপিএম) এবং পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস জোটের প্রার্থী মুইজু ৫৩.৭৬ ভাগ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ ৪৬.২৮ ভাগ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম রাউন্ডের নির্বাচনে মুইজু ৪৬ ভাগ এবং সলিহ ৩৯ ভাগ ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আট প্রার্থীর কেউ ৫০ ভাগ ভোট না পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী শনিবার দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপ পরিণত হয়ে গেছে ভারতপন্থী বা চীনপন্থী হিসেবে বিভক্ত।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সলিহ ভারত-প্রথম নীতিতে বিশ্বাসী আর মুইজু চান চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে।
উল্লেখ্য, কট্টর চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত আবদুল্লা ইয়ামিনকে পরাজিত করে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সলিহ। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরই ভারতের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে শুরু করেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত ও চীনপন্থী দুই নেতার মধ্যে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তাই এ দুই দেশও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন। এদিকে, ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।
শনিবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারের লম্বা লাইন দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, ২ লাখ ৪২ হাজার ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে ২০ শতাংশ ব্যালটের তথ্য এখনও আসেনি। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে ২ লাখ ৮২ হাজার ভোটারের ভোট দেওয়ার কথা। দেশটিতে জনসংখ্যা ৫ লাখ।
একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগও শোনা গেছে। এতে একটি কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ভেঙে গেছে বলে ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ব্যালট। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে দেশটির প্রশাসন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়।
প্রথম দফার নির্বাচনে এগিয়ে থাকা রাজধানী মালের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মুইজ্জু চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত। সলিহকে হারাতে পারলে তিনি দেশ থেকে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি উচ্ছেদ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে চীন-ভারতের শক্তিমত্তার খেলার ছায়ায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ জয়ী হলে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে নয়াদিল্লির প্রভাব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সলিহর সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভালো।
প্রথম দফার নির্বাচনে মোহাম্মদ মুইজু ৪৬ শতাংশ ও সলিহ ৩৯ শতাংশ ভোট পান। তবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দু’জনের মধ্যে হাডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
ভারত মহাসাগরের মাঝে কৌশলগত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। এটি বিশ্বের ব্যস্ততম পূর্ব-পশ্চিম শিপিং লেনগুলোর একটি। ফলে ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকাশে দিল্লি ও বেইজিং নিজ নিজ বলয় প্রতিষ্ঠা করতে চায় দেশটিতে।
সূত্র : আল জাজিরা, সিনহুয়া




