উপমহাদেশশিরোনাম

মায়াবতীকে ‘বেশ্যা’ বলে বিজেপি নেতা বিপাকে

ভারতের দলিত সমাজের নেত্রী ও বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতীকে একজন ‘বেশ্যা’র সঙ্গে তুলনা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন শাসক দল বিজেপির একজন সিনিয়র নেতা দয়াশঙ্কর সিং।
দলই শুধু তাকে তাড়িয়ে দেয়নি, এখন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশও মিঃ সিংকে খুঁজছে।
পার্লামেন্টেও বিজেপি নেতার ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দেশের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
গতকাল পার্লামেন্টে এই মন্তব্যের প্রতিবাদে তুমুল হইচই করেছেন মায়াবতী নিজে। আর আজ বৃহস্পতিবার লক্ষ্মৌতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি দাবি করেছেন, তার অনুগামীরা তাঁকে একজন ‘দেবী’র মতো দেখে।
‘‘দলিত সমাজের চোখে আমি একজন দেবী। তাই তারা দয়াশঙ্কর সিংয়ের কথায় ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ’’, হাজার হাজার মানুষের ওই স্বত:স্ফূর্ত সমাবেশে মায়াবতী ঘোষণা করেছেন।
এদিকে দেশের আর এক শীর্ষস্থানীয় মহিলা রাজনীতিক জয়ললিতাও মায়াবতীর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

 বিজেপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে লক্ষ্মৌতে স্বত:স্ফূর্ত সমাবেশ।
বিজেপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে লক্ষ্মৌতে স্বত:স্ফূর্ত সমাবেশ।

রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তাঁকেও আগে অনুরূপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
জয়ললিতা বলেছেন, ‘‘মায়াবতী আমার বোনের মতো। তার বিরুদ্ধে যখন এ ধরনের কথা বলা হয়, তখন সত্যিই আমার বুক কাঁপে। আমি আশা করব মহিলা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ বন্ধ হবে’’।
 লক্ষ্মৌতে বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদ সমাবেশে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
লক্ষ্মৌতে বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদ সমাবেশে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।

দয়াশঙ্কর সিং দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার আগে ছিলেন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে বিজেপির ভাইস-প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের সামনে বলা তার একটি বেফাঁস মন্তব্য সামনে আসার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
উত্তরপ্রদেশের মৌ-তে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক ভিডিও ক্যামেরার সামনে মিঃ সিংকে বলতে শোনা যায় – মায়াবতী যেভাবে নিজের দলের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের টিকিট বেচেন তাতে বোঝা যায় তার চরিত্র ‘‘বেশ্যারও অধম’’।
‘‘সকালে একজন এক কোটি টাকা নিয়ে এলে তাকে তিনি টিকিট দেবেন বলে কথা দেন। দুপুরে দু কোটি টাকা নিয়ে অন্য কেউ এলেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।’’
‘‘আবার বিকেলে তিন কোটি টাকা নিয়ে কেউ এলেই সে আবার টিকিট পেয়ে যায়। তো যার চরিত্র এই রকম, তাকে বেশ্যা ছাড়া আর কীই বলা যায়? এমন কী বেশ্যারাও একবার কাউকে কথা দিলে কথা রাখে’’, ওই ভিডিওতে বলেন দয়াশঙ্কর সিং।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই গত দুদিন ধরে পার্লামেন্টে তুলকালাম চলছে।
মায়াবতী-সহ বিরোধী দলের চাপের মুখে সভাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান বিজেপির নেতা ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
মিঃ জেটলি বলেন, ‘‘একজন বিজেপি নেতা এই ধরনের মন্তব্য করেছেন জেনে আমি অত্যন্ত বিচলিত বোধ করছি। আমি মায়াবতীজিকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই আমরা পুরোপুরি তার পাশে আছি’’।
মায়াবতী অবশ্য দাবি করেছেন দয়াশঙ্কর সিং-কে পার্টি থেকে সাসপেন্ড করলেই শুধু হবে না, তার বিরুদ্ধে এফআইআর জারি করে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button