মানিকগঞ্জ-২ আসন নৌকার মাঝি ছেড়ে মাল্লারা উঠেছে ট্রাকে

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) : টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। শুরুতে ২০০৮ সালে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হন । পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামীলীগের টিকেট নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর- হরিরামপুর ও সদরের ৩ ইউনিয়ন) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করেন।
নির্বাচনী এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পদ বাণিজ্য, জনপ্রতিনিধিদের অসম্মান, কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়া ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ থাকা সত্তে¦ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকেটটি তার কপালেই জুটেছে। এতে প্রতীক পেয়েও হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থীর চাপে কোনঠাসায় মমতাজ।
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, তার আপন চাচতো ভাই জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু, সদ্য পদত্যাগকারী সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহামান খান হান্নান ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চঞ্চলসহ বিভিন্ন দলের ১০ জন প্রার্থী এ আসটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের মমতাজ বেগম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর সাথেই মুল লড়াই হবে। মমতাজের নিজ এলাকা সিংগাইর উপজেলার নৌকার প্রতীকের নির্বাচিত ৮ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার সাথে নেই। তারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের টুলুর সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। এরা সকলেই জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মীর মো. শাহজাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো সায়েদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো.রমিজ উদ্দিন, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.সাইফুল ইসলাম মনি ও মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন আক্তারসহ তৃণমূল আওয়ামলীগ ও অঙ্গসংগঠনের বেশীরভাগ নেতাকর্মী নৌকার মাঝি মমতাজকে ছেড়ে ট্রাক প্রতীকের টুলুকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করছেন।
এদিকে নির্বাচনী এলাকার হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক দেওয়ান মো. সায়েদুর রহমানসহ একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান নৌকার মাঝি ছেড়ে ট্রাকে ওঠেছেন। জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মনির হোসেন ও তার কর্মীসমর্থকরা দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর হয়ে কাজ করছেন। এদের সাথে নেপথ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এক বর্ষীয়ান নেতা। এমনকি মমতাজ বেগমের তিন বোন ও নিজ ইউনিয়ন জয়মন্টপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহাদৎ হোসেন নৌকা ছেড়ে ট্রাকে ওঠায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে জেলার দুই শীর্ষ নেতাকে নিয়ে কটাক্ষ করে একটি জনসভায় বক্তব্য দেন মমতাজ বেগম। এ ছাড়া গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন মমতাজের উপজেলা থেকে সর্বনি¤œ ভোট পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে মোড়া প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক তিনবারের যুব ও ক্রীড়া বিষষক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল বলেন,বিগত ১৫ বছরে মমতাজ বেগম ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাদের বাদ দিয়ে পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে সংগঠনকে ধংস করেছেন। শহীদ রফিক সেতুর তিন চাকা যানবাহনের টোল তার প্রচেষ্ঠায় মওকুফ হওয়ার পর পুনরায় চালু হলেও তা বন্ধে এমপি হিসেবে কোনো ভূমিকা রাখেননি মমতাজ। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী অংশগ্রহন মুলক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অনুমতি থাকায় তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে এ ত্যাগী নেতা জানান।
ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ সংগঠনটি মমতাজ পরিবারের কাছে জিম্মি। নিজে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও তার আগের প্রয়াত স্বামীর ভাগিনা শহিদ সাধারণ সম্পাদক ও সৎ ছেলে আবু নাঈম মো. বাশার পৌরসভার মেয়র। এ জিম্মি দশা থেকে উত্তরণ ও নেতাকর্মীদের যোগ্য সম্মান পেতে ট্রাক প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ২০ বছরের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অবদানের জন্য জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী টুলু।
এ ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী মমতাজ বেগম বলেন, ড্যামি প্রার্থীর ঘোষণা দেয়ায় দল থেকে স্বতন্ত্রের নামে ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। কিছু ভোট হয়তো টাকায় বেচা-কেনা হবে। তবে প্রকৃত আওয়ামীলীগ ও আমার জনপ্রিয়তায় এ আসনে নৌকা বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবে।




