মানিকগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি : পরিত্যক্ত এক গুদামঘর

১৯৬১সালে প্রতিষ্ঠিত মানিকগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি আজ যেন পরিত্যক্ত এক গুদামঘর। প্রায় ২০হাজার দুর্লভ বইয়ের এই সংগ্রহশালার দিকে কারও নজর নেই। লাইব্রেরির নিজস্ব প্রবেশপথ বেদখল,দিনভর এর প্রবেশ পথ,আঙিনায় বসে দলিল লেখকদের হাট,চায়ের দোকান। ২০০৪ সালের পর পরিচালনা কমিটির কোন নির্বাচনও হয়নি। এই প্রজন্মের অনেকই জানেনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দশগজ দূরে অবস্থিত এই লাইব্রেরির কথা। দুজন মাত্র কর্মচারি নামমাত্র বেতনে চাকুরি করছেন,যাদের বেতন একটাকাও বাড়েনি গত ১যুগে। পত্রিকার বিল বাকি,দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে,এমনকি একটি সাইনবোর্ডও নেই লাইব্রেরিটির।

অথচ জেলার জনপ্রতিনিধি, আমলা, নাগরিক সমাজ,কারও কোন মাথা ব্যথাই নেই এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে। কেউ একটি বারের জন্য দেখতে যাননি,খোঁজ নেননি।
অথচ এই লাইব্রেরিটি একসময় মানিকগঞ্জের মানুষের জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আমি নিজে আমার স্কুল জীবনে লাইন দিয়ে বই নিয়েছি।প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ পাঠক লাইব্রেরিতে আসতেন,আর আজ দিনে দশ জনের দেখা মেলা ভার।
যে লাইব্রেরি নিয়ে মানিকগঞ্জবাসীর গর্ব করবার কথা,তা হয়ে গেছে লজ্জা আর অক্ষমতার প্রতীক।
ছবি ও লেখা অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নুর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া।




