মানিকগঞ্জে লোকসানের কবলে আলু চাষীরা পেল প্রণোদনার আশ্বাস

সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ : মাকিগঞ্জে এ বছর আলু বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের কবলে পড়েছে কৃষক। অসময়ে দুইদফা বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের আলুতে পচন ধরেছে। তাই অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলু ঘরে রাখা তে পারছের না তারা। বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। এছাড়াও প্রাকৃতিক দূর্যোগ জাওয়াদের কারণে সিজনাল ফললের ক্ষতি হয়েছে। আলুর পচন। বাজারে কম দাম। আলু চাষের শুরুতে সার সঙ্কট। আর সার সঙ্কটের কারণে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার ক্রয়। সব মিলিয়ে আলু উৎপাদনে বেশি খরচের কারণে আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা। জেলার ৭টি উুপজেলার অধিকাংশ আলু চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। হতাশায় কবলে পড়েছে কৃষক। তবে যারা আগাম ফসল করেছিলেন তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পেয়েছেন। এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬০০ হেঃ জমিতে আবাদ হয়েছে ১৫৬৫ হেঃ জমিতে। সে হিসেবে ২% জমিতে আলুর আবাদ কম হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে এ বছর ৩৫ হেঃ জমেিত আলুর আবাদ কমেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে আলু চাষীদের মুখে। সার বিজ কিটনাশক জমি কটের টাকা আর শ্রমিকের মূল্য পরিশোধ শেষে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ জাহার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এদিকে আলু ক্রয়-বিক্রয় মধ্যস্থতাকারী ফরিয়ারাও পড়েছে বিপদে। আলুর উৎপাদন ভাল হলেও পচনের কারণে বাচারে বড় বড় বাজার ধরতে পারছেন না তারা। পরবর্তী ফসল দিয়েও এ বছর ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারা না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সঠিক সময়ে আলু বপন, চাষ উপযোগী জমি নির্বাচন, আলু সংরক্ষণ পদ্ভতি, এসব কারণ আলু চাষীদের লোকসানের মুখে পাড়ার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ। তিনি জানান, উপযুক্ত জমিতে সঠিক সময়ে আলু চাষ করতে পারলে এবং আলু উঠানোর পর তা তিন চার মাস তা সংরক্ষণ করে রাখতে পারলে কৃষকের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। আমাদের দেশের কৃষক আলু রংরক্ষণে সচেতন নয়। তাই আলু সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষককে সচেতন করতে হবে। তিনি আরো জনান, জাওয়াদের প্রভাব এবং দুই দফা বৃষ্টির কারণে এ বছর ১১০ হেঃ জমির আলু নষ্ট হংেছে। আমাদের দেশে আলু উৎপাদন হয় ১ কোটি ১০ লক্ষ মেঃ টন। জনসংখ্যার বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৭০ লক্ষ মেঃ টন। সে অনুপাতে আলুর উৎপাদন অনেক বেশী হয়। প্রতি বছর অতিরিক্ত আলু থেকে যাচ্ছে। পুরান আলু বাজারে থেকে যাওয়ার কারনে নতুন আলুর দাম কম। লোকসানের জন্য একটিও একটি কারণ। মাঠ দিবসে আলু সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। আলু একটি সবজি জাতিয় ফসল। তারপরেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি গেলে আলু থেকে লাভবান হওয়া যেতে পারে। আলু সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকের মনোযোগী হওয়া ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আলু চাষে লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। অন্যান্য দানাদার জাতিয় ফসলে প্রণোদনা থাকলেও আলুতে কোন প্রণোদনা ব্যবস্থা নেই। তবে লোকসান হওয়ার পরেও আলু চাষে মানিকগঞ্জের কৃষকদের যেহেতু আগ্রহ রয়েছে তাই কৃষকের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর্ েইতোমধ্যেই প্রণোদনার বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলু চাষীদের ক্ষতির কারণ বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোঃ এনায়েত উল্লাহ। যারা আগাম চাষ করেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। তাই সঠিক সময়ে আলু চাষ এবং তিন চার মাস সর্ংক্ষণ ব্যবস্থা করতে পারলে আলু চাষীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। বিভাগীয় প্রস্তাবনায় আলু চাষীদের প্রণোদনার প্রস্তাবনা করয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।



