
মো.নজরুল ইসলাম,মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে ঘিওরের নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়া গ্রামের উঠানে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক ও হেলাচিয়া কৃষক কৃষাণী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ভিন্ন বৈচিত্র্যে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করা হয়।
“একদিন তুমি পৃথিবী গড়েছো, আজ আমি স্বপ্ন গড়বো, সযত্নে তোমায় রাখবো” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রবীণ দিবসে তাদের জীবনের গল্প ও নবীনদের স্বপ্নসহ মানবজীবনে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে প্রবীনদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের প্রজন্ম ভাবনা বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তারা প্রবীনের অধিকার, কীটনাশক-রাসায়নিক সারের ক্ষতির প্রভাব, জৈব কৃষি চর্চা করি, পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে দাবী তুলে ধরেন।
গল্পের আসরে হেলাচিয়া দক্ষিনপাড়া কৃষক কৃষানী সংগঠনের সভাপতি মোঃ আলমাস মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল মল্লিক ও বারসিক কর্মকর্তা সামায়েল হাসদার সঞ্চালনায় জীবনের গল্প তুলে ধরেন প্রবীণ মোঃ মুসলিম উদ্দিন, মোঃ মজিবুর রহমান, মজনী বেগম, আলেকজান বেগম, আব্দুল সাক্তার, শতবাড়ি কৃষক কৃষাণী এবং যুব কিশোর কিশোরী প্রমূখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়, প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, মুক্তার হোসেন, গাজী শাহাদাত হোসেন বাদল প্রমুখ।
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনের ভাবনায় ১৪জন প্রবীণ, ১৭জন যুবক ও ১৩জন নবীন আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।
প্রবীণ ব্যক্তি মোঃ শাহাদাত হোসেন (৬৫) বলেন, ‘আমাদের এই চকে আগে বর্ষার সময় অনেক পানি থাকতো, প্রচুর মাছ থাকতো টেটা দিয়ে মাঝ ধরতাম। এখন বর্ষার সময় ঠিক মতো পানি আসে না মাছও থাকে না। আমরা বিষ দিয়ে পানি নষ্ট করছি, মাছ মেরে ফেলছি, পরিবেশ নষ্ট করছি। এ বিষয়ে নবীনদের কাজ করতে হবে। অনেক নবীন নেশা করে নষ্ট হচ্ছে মোবাইলে গেম খেলে। পরিবার থেকে আমাদের ছেলে মেয়েদের খোজ নিতে হবে।’
মোঃ মজিবুর রহমান(৬৭) বলেন, “আগে অনেক জাতের আমন মৌসুমের ধান(ভাওয়ল্যা, হিজল দিঘা,দিঘা, ঢেপো, নল ডগা) চাষ করতাম, ফলন ভালো হতো। এখন এসব জাতের ধান হারিয়ে যাচ্ছে। ঐ সময় আমরা অনেক ভালো ছিলাম। আমাদের রোগ জীবানু কম হতো। বর্তমানে ইরি ধান, ব্রি-২৯, ব্রি-৯১ ধান চাষ করি খরচ বেশি হয়। এসব খেয়ে আমরা ভালো নেই।
গৃহবধূ পারভীন আক্তার বলেন,“প্রত্যেকের বাবা-মা, শশুর-শাশুরীকে শ্রদ্ধা করতে হবে, যত্ন করতে হবে কারন আমারাও একদিন বৃদ্ধ হবো আমাদের দেখে আমাদের সন্তানরা শিখবে আমাদেরকেও শ্রদ্ধা করবে যত্নে করবে। আমি আমার শশুর-শাশুরীকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করি।”
নবীন শিক্ষার্থী মোঃ সোহান মিয়া বলেন,“দশ বছর আগেও এ খালে অনেক মাছ পাওয়া যেতো এখন আর পাওয়া যায় না। প্রবীণদের আমাদের সম্পদ তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে এগুতে হবে। আমি আমার মা বাবাকে দেখি দাদা দাদিকে অনেক শ্রদ্ধা করে যত্ন করে। এটা দেখে আমি শিখেছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। আমিও আমার বাবা মাকে যত্নে করবো, শ্রদ্ধা করবো।”
আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিময় রায় বলেন, ‘এখানে তিন প্রজন্মের মানুষ আছে প্রবীন, যুব ও শিশু। প্রবীণদের জীবনযাত্রা একরকম ছিলো, বর্তমানে একরকম এবং ভবিষ্যতে অন্য রকম হবে। এখানে আমরা শুনেছি প্রবীণ অনেক মাছ ধরেছে এখন আর মাছ পাওয়া যায় না। ফসল ফলায়তে অনেক কষ্ট হয়। পরিবেশ নষ্ট হয়েছে মানুষের রোগ বেড়েছে। তার মানে আমরা ভালো নেই। আমরা কীটনাশক দিবো না জৈব উপায়ে ফসল উৎপাদন করবো নিরাপদ খাবার খাবো’।
আরো আলোচনা করেন বারসিক কর্মকর্তা মোঃ মুক্তার হোসেন, গ্রাজী শাহাদাত হোসেন, মোঃ আলমাস, নবীন মোঃ রাব্বি হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রবীণরা গান পরিবেশন করেন।
আমরা আনন্দের সহিত বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের মাধ্যমে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নবীনরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে যা একটি সমাজ গড়তে সহায়তা করবে।




