শিরোনাম

মানিকগঞ্জে পানিবন্দি দুই লাখ মানুষ:২৫২টি বিদ্যালয় পানিতে নিমজ্জিত

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়েছে। তারপরও সোমবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। এতে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন এবং প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে ও ডুবে গিয়ে জেলার ৬৫টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার বন্যাকবলিত এলাকার ২২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৬টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ওঠায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাড়ি-ঘর ডুবে নিম্নাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে পড়েছে অনেক পরিববার। স্থানীয় কৃষকেরা ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অনেকে বাড়ি-ঘর তলিয়ে গিয়ে গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন জানায়, সপ্তাহ খানেক ধরে দেশের প্রধান নদী মানিকগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া পদ্মা-যমুনার পানি বৃদ্ধি পায়। এর সাথে সাথে শাখা নদী ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এ জেলার ঘিওর উপজেলার কুস্তা, বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া, মির্জাপুর, জাবরা, তরা, নকীববাড়ি, সিংজুরী পাশ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর, খলসী ও শিবালয় উপজেলার তেওতা, আরুয়া ইউনিয়ন এবং পদ্মা নদীর হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর, ধূলসুড়া, সুতালড়ি , লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্লাবিত হয়েছে।
চরকাটারি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল বারেক জানান, ওই ইউনিয়নের প্রায় ৯৫ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি চার হাজার পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকার সংখ্যা আরো বাড়ছে।
ঘিওর
বাচামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জানান, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এগুলোর তালিকা করা হয়েছে। বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন জানান, ওই ইউনিয়নের ছয় হাজার পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যেই পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। বন্যা শেষে ছুটির দিনেও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, দুর্গতদের তালিকা করতে বন্যা কবলিত এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দুর্গতদের মধ্যে নগদ সাত লাখ টাকা ও ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। পরে আরো নগদ পাঁচ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গতকাল রবিবার থেকে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button