মানিকগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিনে অধিকার আদায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহবান

মো.নজরুল ইসলাম,মানিকগঞ্জ :”বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, কন্যাশিশুর অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর আয়োজনে এবং ব্র্যাক, বারসিক, ওয়েভ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের সংহতি নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে রালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা খাতুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচির লক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান খান হান্নান।বিশেষ আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আলম উজ্জ্বল,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার, অধ্যাপক বেনিমাধব সরকার, বারসিক কর্মকর্তা রিনা আক্তার প্রমুখ।
এদিকে একই কর্মসূচি সিংগাইর পৌরসভার বিনোদপুর নয়াপাড়ায় কনকলতা কিশোরী ক্লাব ও বারসিকের উদ্যোগে গ্রামীণ খেলাধুলা ও কিশোরী বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংগঠনের সভাপতি নাদিয়া সুলতানার সভাপতিত্ত্বে ও বারসিক প্রকল্প সহায়ক আছিয়া আক্তারের সঞ্চালনায় কর্মসূচির ধারণা পাঠ করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি তানিয়া আক্তার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপজেলা নারী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি পারভীন আক্তার,বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম, রীমা আক্তার প্রমুখ।
অন্যদিকে অভিন্ন এই কর্মসূচি মানিকগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি প্রজাপতি কিশোরী ক্লাব ও বারসিকের যৌথ আয়োজনে গ্রামীণ খেলা ও কিশোরীযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংগঠনের সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে ও বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা ঋতু রবি দাসের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়।
বক্তারা বলেন কণ্যা শিশুর সকল অধিকার সুরক্ষাসহ শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও আইনি সহায়তার পথ নারী-পুরুষে সমান তালে বেগবান থাকবে। তাদের ন্যয্য অধিকার,লিঙ্গ বৈষম্য রোধসহ নারীর বিরুদ্ধে হিংসা,বুলিংসহ বাল্য বিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যাবহারে যথেষ্ট সংবেদনশীলতা থাকতে হবে।
উল্লেখ্য যে-একটি কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং তাদের শিক্ষা,স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির গুরুত্ব উন্নত করার জন্য ভারতে প্রতিবছর ২৪ জানুয়ারি জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়। মহিলা ও শিশু উন্নয়নে মন্ত্রক ২০০৮ সালে প্রথম এই দিবসটি পালন করে ।
প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস। বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেশে দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমরা কন্যাশিশু প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হব, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব’। ২০০৩ সালে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ঘোষণা করা হয়।
সরকারের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বর্তমান সরকার। এই শিশুদের অন্তত ১৫ শতাংশ কন্যাশিশু। করোনাকালে কন্যাশিশুর ওপর বঞ্চনা বেড়ে যাওয়ায় দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবর পালিত হবে বিশ্ব শিশু দিবস। দিনটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ি, শিশুর জন্য বিনিয়োগ করি’।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ও জাতীয় কন্যা শিশু দিবস নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়েন। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহে ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছরের ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। এদিকে প্রতিবছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিশু সপ্তাহ পালন করা হয়। এই শিশু সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস হিসাবে।


